পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর ভারত সফর

ঢাকা-দিল্লি বাণিজ্যিক সম্পর্কোন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ চান মোদি

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২২:১৫
 
 
 
 
 
 
ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে বাণিজ্যসহ নানা ক্ষেত্রে সম্পর্কোন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সাক্ষাত্কালে দুই দেশের সম্পর্ক আরো জোরদারে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে এ আহ্বান জানান মোদি। একই দিনে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন মাহমুদ আলী। এ সময় দুই দেশের মধ্যে ঝুলে থাকা সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন প্রণব মুখার্জি।
বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে যৌথ পরামর্শক কিমিটর (জেসিসি) তৃতীয় বৈঠকে যোগ দিতে চারদিনের সফরে বৃহস্পতিবার ভারত যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শুক্রবার সফরের দ্বিতীয় দিনে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি ছাড়াও এ দিন তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, অর্থ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি, ভারতের পানিসম্পদমন্ত্রী উমা ভারতীর সঙ্গে বৈঠক করেন। 
সৌজন্য সাক্ষাত্কালে নরেন্দ্র মোদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত একসূত্রে গাঁথা। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আর তার কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে রক্ষা করেছেন। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য ভারতের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও এ অঞ্চলে সমন্বিত উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 
মোদি বলেন, দুই দেশের বিদ্যুত্ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিদ্যুত্, জ্বালানি, অবকাঠামো ও পর্যাটন খাতের উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরো জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও সুযোগ গ্রহণে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দেন মোদি। দুই দেশের ভৌগলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি সংযোগ ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির উপর জোর দেন।  এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান, শিগগিরই সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরে আগ্রহী রয়েছেন। 
অন্য দিকে, রাষ্ট্রপতি ভবনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রণব মুখার্জি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বেশি বিস্তৃত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে হওয়া সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। এক্ষেত্রে জেসিসি বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, প্রায় সকল ক্ষেত্রেই দুই দেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এখন দুই দেশের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধিতে আরো বেশি কাজ করা দরকার। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সামনে এগিয়ে চলেছে। সহযোগিতা বৃদ্ধিতে দুই পক্ষকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ে বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।
এর আগে সকালে পানিসম্পদমন্ত্রী উমা ভারতির সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ছাড়াও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানিসম্পদ সম্পর্কিত সকল বিষয়ে তারা আলোচনা করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠা বাংলাদেশ ও ভারতের সুসম্পর্ককে আরো জোরদার করার বিষয়ে তারা উভয়ে একমত হয়েছেন। বৈঠকে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারিক এ করিম, পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক এবং পানিসম্পদ সচিব ড. জাফর আহমদ খান উপস্থিত ছিলেন।
একই দিন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির সঙ্গে সাক্ষাত্কালে দুই উন্নয়ন সহযোগিতা সম্পর্কিত নানা ইস্যুতে কথা বলেন।
সফরে তৃতীয় দিনে শনিবার জেসিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই ও স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা দ্রুত সমাধানে ভারতকে অনুরোধ জানানো হবে। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, এই দুই ইস্যু ছাড়াও অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থপনার বিষয়ে আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশনের পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের বিষয়টিও তুলে ধরা হবে। জেসিসি বৈঠকের আগে ভারতের পররাষ্ট্র সুষমা স্বরাজের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। এ সফরের মধ্য দিয়ে ভারতের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সফরকালে কংগ্রেস নেতা গোলাম নবী আজাদের সঙ্গেও সাক্ষাত্ করার কথা রয়েছে তার। চার দিনের সফর শেষে জাতিসংঘের ৬৯তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্য নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে দিল্লি ছাড়বেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।