গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালি ইউনিয়নের রিফাইতপুর গ্রামে শনিবার সন্ধ্যায় ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা প্রকৌশলী মতিনুর রহমান মতিন (৫৫) খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের ছেলে উচ্ছাস মিয়া (১৬) গ্রেফতার করেছে।
প্রকৌশলী মতিনুর রহমান মতিন এলজিইডির রংপুর সার্কেলে সহকারি প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলায়।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আহমেদ রাজিউর রহমান জানান, ৭/৮ বছর আগে মতিনুর রহমানের সাথে তার স্ত্রী প্রকৌশলী নিলুফার ইয়াসমিনের সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়। পরে নিলুফার ইয়াসমিনের অন্যত্র বিয়ে হয়। বর্তমানে তিনি (নিলুফার ইয়াসমিন) কুমিল্লায় কর্মরত রয়েছেন। বাবা-মার বিচ্ছেদের পর উচ্ছাস গাইবান্ধা সদর উপজেলার রিফাইতপুর গ্রামে মামার বাড়ি থেকে পড়াশোনা করতো। মতিনুর রহমানও মাঝে মধ্যেই ছেলেকে দেখতে রিফাইতপুর গ্রামে সাবেক শ্বশুর বাড়িতে আসতেন। শুক্রবার তিনি ছেলের সাথে দেখা করতে ঐ বাড়িতে আসেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে মতিনুর রহমান চলে যাওয়ার সময় বাবার কাছে উচ্ছাস অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। কিন্তু তিনি তা দিতে অস্বীকার করলে ছেলে উচ্ছাস বাড়ির সামনে গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের উপরে তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মতিনকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে উচ্ছাস গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিত্সক অধিক রক্ত ক্ষরণে তার অবস্থা আশংকাজনক মনে করে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। রংপুর নেয়ার পথে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের ২শ’ গজ দুরে ফায়ার সার্ভিসের অফিসের কাছে মাইক্রোবাসেই তিনি মারা যান।
খবর পেয়ে পুলিশ মাইক্রোবাসসহ উচ্ছাসকে আটক করে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
উচ্ছাস মাদকাসক্ত বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।
