হাতকড়াসহ আসামির পলায়ন, পুলিশের মিথ্যা বক্তব্য, সাধারণকে হয়রানি

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০১:৪৭

রংপুরের পীরগঞ্জে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি আলতাব হোসেন (৪৬) গত শুক্রবার রাতে হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চান্দপুর গ্রামের নিরীহ ১০ নারীসহ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রামবাসী জানায়, রাত আটটার দিকে চান্দপুর গ্রামের নিজের চালকল থেকে ওই আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এরপর থানায় নেওয়ার পথে তিনি হাতকড়াসহ পুলিশের মোটরসাইকেল থেকে লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় পুলিশ গাফিলতি আড়াল করতে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করে রাতেই থানায় মামলা করে এবং গ্রামের ওই ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের রংপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে পুলিশের আতঙ্কে গ্রাম অনেকটা জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান প্রধানের ভাষ্যমতে, আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে মারামারি ও অপহরণের অভিযোগে একটি মামলা আছে। এই মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে থানার এএসআই মিলন মিয়া ও কনস্টেবল সাইদুল ইসলাম ওই গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরান। এ সময় গ্রামের লোকজন পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নেন। এতে পুলিশ আহত হয়েছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন, কিছুটা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের হাত থেকে ওই আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা সঠিক নয়। অথচ পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রামের ৬০ জনকে আসামি করে শুক্রবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এরপর ওই ২২ নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই গ্রামের হবিবর রহমান, জামসেদ আলীসহ ১০-১২ জন অভিযোগ করেন, পুলিশ আলতাবকে গ্রেপ্তার করে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। তাঁরা জানতেন না তিনি পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে গেছেন। কিন্তু রাত ১১টার দিকে পুলিশ গ্রামে এসে আবারও আলতাবকে খুঁজে না পেয়ে যাকে পেয়েছে তাকেই গ্রেপ্তার করেছে। আসামি ছিনিয়ে নেওয়া তো দূরের কথা, পুলিশের সঙ্গে গ্রামের কারও কোনো কথাই হয়নি।
সংশ্লিষ্ট রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, গ্রামে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। আসামি আলতাবকে গ্রেপ্তার করে নেওয়ার পথে তিনি পুলিশের মোটরসাইকেল থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান। এখন পুলিশ নিজে বাঁচতে থানায় মিথ্যা মামলা করে গ্রামের নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার করে হয়রানি করছে। এ ব্যাপারে পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।