সাতক্ষীরায় পুলিশের অভিযানে আটক ২৭

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১২:৫৪
জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যূ দণ্ডের  রায়কে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী জামায়াতের ডাকা দ্বিতীয় দিনের হরতালে নাশকতা এড়াতে পুলিশ শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ২৭ জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। এদের মধ্যেসাতক্ষীরা সদর উপজেলা থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, আলীপুর গ্রামের জামায়াতের আমীর শহিদুল্লাহ সরদার, লাবসা দূর্গাপাড়া গ্রামের জামায়াত কর্মী আমিনুল ইসলাম, মাহমুদপুর গ্রামের মজনুর রহমান, একই গ্রামের জামসেদ, বালিয়া ডা্ঙ্গা গ্রামের আব্দুল কাদের, আলিপুর গ্রামের  ইব্রারাহিম, একই গ্রামের আসাদুল ইসলাম, বেলায়েত আলী সরদার, আবু হাসান, দৌলতপুর গ্রামের  আহম্মদ আলী, ওয়ারিয়া গ্রামের শাহিন হাসান, ঘরের কান্দ গ্রামের আব্দুর রহমান, পারকুখরালী গ্রামের ওহেদুজ্জামান, বকচর গ্রামের আবুল বাশার। শ্যামনগর থেকে আবাদচন্ডিপুর গ্রামের জামায়াত কর্মী আশরাফ আলী সরদার, নূরনগর গ্রামের ছবেদ আলী, গোবিন্দপুর গ্রামের সোহারাব আলী, নওয়াবেকী গ্রামের রেজাউল ইসলাম। কালিগঞ্জ থেকে তিনজন হলেন, পূর্ব নলতা গ্রামের জামায়াত কমী রফিকুল গাজী, তেতুলিয়া গ্রামের শিবির কর্মী আবু হাসান, রঘুনাথপুর গ্রামের  জামায়াত কর্মী লুৎফর রহমান। কলারোয়া থেকে গোপিনাথপুর গ্রামের জামায়াত কর্মী হায়দার মিস্ত্রিকে আটক করা হয়েছে। দেবহাটা থেকে আটককৃতরা হলেন, নাংলা গ্রামের মৃত বদর উদ্দীনের ছেলে জামায়ত কর্মী হামিদ, নওয়াপাড়া গ্রামের বাবলুর রহমান, বহেরা গ্রামের সাইদুর রহমান। পাটকেলঘাট থেকে বিএনপি কর্মী জামাল উদ্দীনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
 
এদিকে, জামায়াতের ডাকা রবিবারের হরতাল সাতক্ষীরায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ঢিলেঢালাভাবে পালিত হচ্ছে। হরতালের সমর্থনে জেলার কোথাও কোন পিকেটিং ও মিছিল-সমাবেশের খবর পাওয়া যায়নি। হরতালের কারণে সাতক্ষীরা থেকে দূর পাল্লার কোন পরিবহন ছেড়ে যায়নি। পরিবহন বন্ধ থাকার কারণে দূরপাল্লার যাত্রীরা পড়েছেন বিপাকে। তবে জেলার বিভিন্ন আভ্যন্তরীণ সড়কে সীমিত সংখ্যক যান চলাচল করতে দেখা যায় । বেলা বাড়ার সাথে সাথে শহরের অধিকাংশ দোকানপাটও অফিস আদালত খুলতে শুরু করে।
 
অন্যদিকে, হরতালের কোন প্রভাব পড়েনি সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরে। ফলে বন্দরের আমাদানি-রপ্তানি কার্যক্রম রয়েছে স্বাভাবিক। নাশকতা এড়াতে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর টহল জোরদার রয়েছে।
জেলা পুলিশের তথ্য কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হরতালে নাশকতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করছে। যেকোন ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।