যুক্তরাষ্ট্র সফররত জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, একসময় মানুষ চায়ের দোকান ও হাটে-বাজারে শুধুই রাজনীতি নিয়ে আলাপ করতেন। সত্তরের দশকে মানুষ খালি গায়ে ও খালি পায়ে হাটতেন। কিন্তু এখন আর রাজনীতি নিয়ে আলাপ করেন না। তারা আলাপ করেন অর্থনীতি নিয়ে। ব্যবসা করেন ডলার-পাউন্ডে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এখন বাংলাদেশি কামলা কম। যাদের একটু বুদ্ধি আছে তারা সাব কন্ট্রাকটর হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্র জেপি আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের সভাপতি রাহাত তানভীরের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেন জেপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আলাউদ্দিন ভুলু, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান খান এবং মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী। এছাড়া মঞ্চে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ মনিরুল ইসলাম। মতবিনিময় সভার সঞ্চালক ছিলেন সাংবাদিক আশরাফুল হাসান বুলবুল।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, গ্রামের মানুষ এখন ক্ষুধার্ত নয়। তারাও এখন মাংসের স্টেক খায়। তাজা মাছ খায়। নিজের খেতের ধান, চাল ও ডাল খায়। নিজেদের উত্পাদিত এসব খাবারের স্বাদই আলাদা। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৩ বছরে মানুষের মাঝে হতাশা ছিল। বেশিরভাগ লোক স্বাধীনতা মর্মার্থ বোঝেন নাই। এখন সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন লোকজনকে ডেকে আন্দোলনে নামানো অসম্ভব। কারণ তারা রাস্তায় নামার কারণ খুঁজে পায় না। তিনি বলেন, একসময় দেশে পুরান কাপড় চোপড় আমদানী করা হতো। কিন্তু এখন কমবেশী সবাই বিদেশি কাপড় চোপড় পড়েন। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বলেন, ভা্লারিয়ার ছেলে-মেয়েরাও এখন শুদ্ধ ভাষায় কথা বলে। তারা শুদ্ধ সুরে রবীন্দ্র সঙ্গীত গায়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টার সমালোচনা করে জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘ভারতের এককালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশে গ্যাস নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন মাহমুদুর রহমান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কথায় বলে দুদিনের বৈরাগী, ভাতকে বলে অন্ন!’ তিনি মন্ত্রী না, উপদেষ্টা । সব ফাইল দেখতে পারেন না, দেখা উচিতও না ।
দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এমন একজনের দিকে ইঙ্গিত করে ইত্তেফাকের প্রকাশক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, যিনি আমার পত্রিকায় ৩টি মার্ডার করিয়েছেন, তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলছেন। এসব কথা আর কেউ এখন খায় না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তিনি তেমন কোন রাজনীতিবিদও ছিলেন না, কিন্তু তাকে গ্রেফতার করে হয়রানি করা হয়েছে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আরো বলেন, দেশের বুদ্ধিজীবীরা বলছেন সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই, সব অন্ধকার। কিন্তু যারা বলছেন তাদের কোনো ক্রেডিবিলিটি নেই। থাকলে সবাই হয়তো একটু হলেও নড়েচড়ে বসতেন। তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, সংবাদপত্রের কণ্ঠ কত মোটা যে ৪০-৪৫ বছরেও কণ্ঠ চেপে ধরার পরও জীবিত আছে।
‘আমরা এখন খুব শক্ত ভাষায় কথা বলি। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে শিখেছি’ উল্লেখ করে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতুর বিষয়েও তেমন বিশ্বব্যাংকের সাথে সস্মানজনক একটা সমাধানের কথা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চুরি প্রমাণ করতে হবে। তিনি বলেন, নানা উত্থান পতনের মধ্যেও বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে। চালিকাশক্তি ব্যক্তি উদ্যোগ। সেটাকেই হত্যা করতে টানা ৭২ ঘণ্টা হরতাল! সকাল সন্ধ্যা হরতালও মানা যায়। কিন্তু কত নিষ্ঠুর, কত নির্মম আমাদের রাজনীতি! কাচামাল নষ্ট হয়। ভালকে স্বীকার করতে জানি না আমরা । ভালো সরকার, গণবিরোধী, স্বৈরাচারী সরকার বর্তমান সরকার এই ৩টা সরকার বিচেনায় বর্তমান যে অর্থনীতি তা ভাইব্রেন্ট। ৪৩ বছরে বাংলাদেশ জিরো থেকে হিরো হয়েছে।
অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান সাড়ে ৫ বিলিয়ন উল্লেখ করে সরকারের সিনিয়র এই মন্ত্রী বলেন, রাজনীতিবিদরা যদি একটু শান্তি দিত, তাহলে এর অর্থনীতি যে কোথায় যেত তা ভাবাই যায় না । প্রবাসী বাঙালীদের দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, কংক্রিটের শহরেও নরম হূদয় আছে, বাঙালীত্ব ধরে রেখেছে। এই বৈশিষ্ট্যকে কোনো কবি সাহিত্যিক ও সাংবাদিক তুলে ধরেননি।
বিএনপির হাসিনা বিরোধী সমালোচনার দিকে ইঙ্গিত করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমার ধারণা প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সফরে নওয়াজ শরীফের সঙ্গে দেখা করবেন। কারণ সেটাও সার্বভৌম দেশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করলে তারা বলবে দেশটা বেঁচে দিলো। কিন্তু কিনলো কে? প্রবাসীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, দেশে অর্থের কোনো সমস্যা নেই। দেশের অবস্থা আরো ভালো হবে। উত্থান-পতন হবে। স্বাধীনতার স্বপ্ন একেক জনের একেক রকম হলেও একসময় সহাবস্থান হবে।
বুড়িগঙ্গার দূষণ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে জাপান সরকার এ দুটি নদীর খননে ও পরিবেশ দূষণ রোধে ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থ সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তিনি বলেন, দূষণ রোধের কারণগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে। তাহলেই এটি রোধ করা সম্ভব হবে।
