জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির অভিন্ন দাবিতে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে রাজধানীর শাহবাগে সমাবেশ করছেন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকরা। রবিবার মঞ্চের তিন পক্ষের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ২৫জন আহত হয়েছেন। ইমরান এইচ সরকার পক্ষের মিছিলে লাঠিচার্জও করে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শাহবাগ থানা সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে সমাবেশ শেষ করে ইমরান এইচ সরকারের পক্ষ একটি মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ের দিকে যাত্রা করে। পথে শাহবাগ থানার সামনে পুলিশ তাদের মোড়ে যেতে নিষেধ করে। দুইপক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও গরম পানি ছুড়ে। এতে ইমরান পক্ষের নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে জাতীয় জাদুঘরের ফটকের দিকে দৌঁড় দেয়। এ সময় জাদুঘরের উত্তর ফটকে কামাল পাশা অংশের সমাবেশে একজন মাইকে ঘোষণা করে, তাদের ওপর হামলা হয়েছে। এরপরই দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সেখানে অবস্থান নেয়া বাপ্পা-সুমন অংশের কয়েকজন কর্মী আঘাতপ্রাপ্ত হলে তারাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে সংঘর্ষ-ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ইমরান এইচ সরকারসহ অন্তত ২৫জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আহতরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন।
সংঘর্ষে অংশগ্রহণকারীরা ইমরান অংশের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত ছোট ট্রাকের কাচ ভাঙচুর করে। তিন পক্ষই পৃথক সমাবেশের চেয়ার ভাঙচুর করে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন- ইমরান এইচ সরকার, আরিফ জেবতিক, মারুল রসুল, অনিক রায়, মেজবাহউদ্দিন, মেহেদী হাসান, রেজোয়ান, জীবন মনোয়ার, রোমিও এবং ইমন।
এর আগে বিকালে শাহবাগে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের পাশে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের পক্ষ। এ সমাবেশে সিপিবি-বাসদ সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট এবং উদীচির নেতাকর্মীদের আধিক্য দেখা যায়। জাতীয় জাদুঘরের প্রধান ফটকে ‘শাহবাগ আন্দোলন’ ব্যানারে সমাবেশে মিলিত হয় মঞ্চের সংগঠকদের আরেক অংশ। এতে ১৪ দলের শরীক জাসদ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ছাত্র সংগঠন জাসদ ছাত্রলীগ ও বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল বেশী। এ অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু ও জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুল ইসলাম সুমন। জাতীয় জাদুঘরের উত্তর পাশের ফটকের সামনে গণজাগরণ মঞ্চের আরেক অংশের পৃথক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের আধিক্য ছিল। কামাল পাশা এ অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিন অংশই পৃথক সমাবেশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আদালতের রায় সংশোধন করে সাঈদীর ফাঁসি এবং সকল যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে।
এদিকে সংঘর্ষের পর ঘটনার জন্য তিন পক্ষ পরস্পরকে দায়ী করে বিবৃতি দেয়। ইমরান এইচ সরকারের পক্ষে ব্লগার মারুফ রসুল সংঘর্ষের জন্য পুলিশ, কামাল পাশা ও ছাত্রলীগের একটি অংশকে দায়ী করে বিচার দাবি করেন। একইসাথে তিনি জানান, হাসপাতালেও তাদের কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এদিকে বাপ্পাদিত্য বসু এবং কামাল পাশা পৃথক বিবৃতিতে সংঘর্ষের জন্য ইমরান এইচ সরকারের অংশকে দায়ী করেন এবং ব্লগার আরিফ জেবতিকের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় ইন্ধন ও নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ আনেন।
এ প্রসঙ্গে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, মঞ্চের নেতা-কর্মীদের শাহবাগ মোড়ে না যেতে পুলিশ অনুরোধ করে। জনস্বার্থেই তাদেরকে সেখানে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে। তবে কারো ওপর লাঠিচার্জ করা হয়নি।
