বিসিএসে ২শ’ নম্বরের প্রিলিমিনারি

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০৯:৪৩

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) প্রিলিমিনারি (প্রাথমিক বাছাই) পরীক্ষার নম্বর ১০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০ করে গেজেট জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট প্রেসের (বিজি প্রেস) ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বয়স, যোগ্যতা ও সরকারি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা-২০১৪ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সময় একঘন্টা থেকে বাড়িয়ে দুই ঘণ্টা করা হয়েছে। এই বিধিমালা জারির ফলে শিগগিরই নতুন নিয়মে ৩৫তম বিসিএসের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, বিধিমালাটি এখনো হাতে পাইনি। আশা করছি সোমবারের মধ্যে পেয়ে যাবো। দুই একদিনের মধ্যেই ৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। ৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান আরো বলেন, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে সময় লাগবে না। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত।

‘দ্য বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (এইজ, কোয়ালিফিকেশন অ্যান্ড এক্সামিনেশন ফর ডিরেক্ট রিক্রুটমেন্ট) রুলস ১৯৮২’ সংশোধন করে বাংলায় নতুন এই বিধিমালা জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী স্বাক্ষরিত নতুন বিধিমালা অনুযায়ী আগের মতো বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) পদ্ধতিতেই এবারের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মূলত নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন না হওয়ার কারণে এতোদিন ৩৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারেনি পিএসসি। এজন্য দীর্ঘদিন ধরে নতুন বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করছেন সরকারি চাকরি প্রত্যাশীরা। চাকরির প্রত্যাশী অনেকের বয়সও শেষ হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ৩৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ফলে ৩৪তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৯ মাস পর সরকারি চাকরিতে যোগদান পরীক্ষার নতুন বিজ্ঞপ্তি পেতে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। গত ৯ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম ইসমাত আরা সাদেক জাতীয় সংসদে বলেন, ৩৫তম বিসিএসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৭৪৯ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে।

নতুন বিধিতে যা আছে
সংশোধিত বিধিমালায় পরীক্ষার আবেদনপত্রের মূল্য ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। তবে প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত তথা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীদের জন্য ২৫০ টাকা থেকে কমিয়ে আবেদনপত্রের মূল্য ১০০ টাকা করা হচ্ছে। মৌখিক পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় ৩০ নম্বরের কম পেলে প্রার্থী কোনো নম্বর পাননি বলে গণ্য হবে, আগে যা ছিল ২৫ শতাংশ। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ধরা হয়েছে ৫০। পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ এই বিষয়গুলোর ওপর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পিএসসির সাতটি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দুইশ’ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রতিটি শুদ্ধ প্রশ্নের উত্তরের জন্য এক নম্বর এবং প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর কাটা যাবে। নতুন বিধিমালায় পরীক্ষায় অংশ নেয়ার বয়সের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাসের প্রথম তারিখ থেকে ২১ বছরের নিচে এবং ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। তবে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পুত্র-কন্যা, প্রতিবন্ধী প্রার্থী, বিসিএসের স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রার্থী বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও উপজাতিদের ক্ষেত্রে বিসিএসের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কারিগরি ক্যাডারে বয়সসীমা ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিল থাকবে। অন্যান্য ক্যাডারের ক্ষেত্রে যথারীতি ৩০ বছর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে। দুইশ’ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে ৪ ঘন্টা আর একশ’ নম্বরের পরীক্ষা হবে তিন ঘন্টা। যেসকল পুরুষ প্রার্থীর ওজন ৫৪.৫৪ কেজি এবং নারী প্রার্থীর ৪৫.৪৫ কেজি এর কম হবে তারা বিসিএসের পুলিশ ও আনসার ক্যাডারে বিবেচিত হবে না। পুরুষ প্রার্থীর উচ্চতা ১৫২.৪০ সেঃমিঃ এবং ওজন ৪৯.৯৯ কেজি, নারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে উচ্চতা ১৪৭.৩২ সেঃমিঃ এবং ওজন ৪৩.৪৫ কেজির নিচে হলে ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য শারীরিকভাবে বিবেচিত হবে না।

তিনশ’ নম্বরের প্রস্তাব ছিল পিএসসির
বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ৩০০ নম্বরের করাসহ কয়েকটি বিষয়ে নিয়োগ বিধি সংশোধন চেয়ে গত মে মাসে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় পিএসসি। মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করে গত ১১ মে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটিতে তুললে কমিটি প্রিলিমিনারিতে ২০০ নম্বর রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনের পরে নিয়মানুযায়ী গত ৩ জুন আবার তা পিএসসির মতামতের জন্য কমিশনে পাঠানো হয়। পিএসসির মতামত পেয়ে বিধি সংশোধনের প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার (ভেটিং) জন্য পাঠানো হয়। ভেটিং শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিধিমালাটি যায় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে। এদের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় এসআরও  জারি করা হলো।