সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের নতুন ভোটিং মেশিন আবিষ্কার

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৯:৪০
 
 
 
 
সার্ভার সিনক্রোনাইজড ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-নামের নতুন এক যন্ত্র আবিষ্কার করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে কিছু আধুনিক ও চমকপ্রদ ফিচার যোগ করে নতুন ধরণের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন তৈরি করল মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, সিলেটের ইলেকট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। এর মাধ্যমে আরো প্রচলিত ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের চাইতে আরও বেশি দ্রুতগতিতে, নিরাপদে এবং স্বচ্ছতার সাথে ভোট কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব বলে দাবি করেছেন তারা। নির্মাতারা ভবিষ্যতে সার্ভার সিনক্রোনাইজড ইভিএম ডিভাইসে ভোটাদের আঙ্গুলের ছাপ, চেহারা সনাক্তকরণ এবং ডিজিটাল আইডি কার্ডের মাধ্যমে ভোট প্রদানের সুবিধা সংযুক্ত করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সোমবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এই ইউনিভার্সিটিতে নতুন ইভিএমের প্রদর্শনী দেখন।
এ সময় মন্ত্রী বলেন,নতুন উদ্ভাবিত এ ডিভাইসটি নির্বাচনে ব্যবহার করা যায় কিনা এর সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অর্থমন্ত্রীর সহোদর ও সাবেক সচিব ড. আব্দুল মুবিন, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. সালেহ উদ্দিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো: শহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায় সার্ভার সিনক্রোনাইজড ইভিএম প্রজেক্টের গবেষণায় কাজ করেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কমিপউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী প্রশান্ত ভট্টাচার্য্য এবং তত্ত্বাবধানে ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষক সৈয়দ রেজওয়ানুল হক নাবিল।
এই ডিভাইসটি প্রতিটি ভোট দেয়ার সাথে সাথে ভোটের তথ্য, ভোট দেয়ার সময়, ডিভাইসের অবস্থান, ডিভাইসের পাওয়ার লেভেল প্রভৃতি তথ্য সেন্ট্রাল সার্ভার এবং এসএমএসের মাধ্যমে একটি গোপন নম্বরে প্রেরণ করে থাকে। এর মাধ্যমে তথ্যেও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
তাছাড়াও ডিভাইসের হার্ডওয়্যারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভোটিং বাটনের কার্যকারিতা মনিটরিং এর ব্যবস্থা রয়েছে ডিভাইসে। মোবাইল নেটওয়ার্কেও সমস্যার কারণে যদি সাময়িকভাবে তথ্য সার্ভারে প্রেরণ করা না যায়, সেক্ষেত্রে সেই তথ্য অফলাইন মোডে ডিভাইসে সংরক্ষিত থাকে এবং নেটওয়ার্ক পেলে পুনরায় তা হালনাগাদ করা হয়। এর মাধ্যমে অফলাইন এবং অনলাইন দুই ধরনের মোডেই তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটিং এর সময় যেকোন ধরণের কারচুপির বিরুদ্ধেও এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজবুত রাখা হয়েছে। ভোট গণনা শেষে যে কোন ধরণের ভুল এড়ানোর জন্যে সার্ভারের, মোবাইলের গোপন নম্বরের এবং ডিভাইসের সংরক্ষিত তথ্য তুলনা করে চূড়ান্ত ফলাফল দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।