আওয়ামী লীগ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে: খালেদা জিয়া

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৮:৪৯

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ সংবিধান রক্ষার কথা বলে নিজেরাই তা লঙ্ঘন করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২০ দলের সমাবেশে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশে কোনো নির্বাচিত সরকার নেই। যারা ক্ষমতায় আছে তারা অবৈধ সরকার। জনগণ তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেনি। এরা অবৈধ সরকার হয়ে কিভাবে সংসদে বসে লম্বা লম্বা কথা বলেন। আবার আইন পাস করেন। এরা সংবিধান রক্ষার কথা বলে আর নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করে চলছে।
খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছেন, 'হাসিনা, মামলা ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না, আমরা গ্রেফতারের ভয় পাই না।'
তিনি বলেন, ১/১১ এর পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের নামে মামলা হয়েছিল। বিএনপি নেতাকর্মীদের নামেও মামলা হয়েছিল। হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরে তার নামে ও তার দলের লোকদের নামে করা মামলা তুলে নিয়েছে। কিন্তু আমাদের মামলাগুলো রেখে দিয়েছে, আমাদের যাতে হয়রানি করা যায়।
তত্ত্বাবধায়ক আমলের মামলা প্রত্যাহার নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, তাদের হয়রানি করতেই এমন করা হচ্ছে।
খালেদা জিয়া বলেন, তারা (সরকার) আমাকে গ্রেফতারের ভয় দেখায়। আমি গ্রেফতারের ভয় পাই না, পেলে আরো আগে চলে যেতাম। তিনি তো (হাসিনা) চলে গিয়েছিলেন, আমি কি গিয়েছিলাম? আমার জনগণকে রেখে আমি কোথাও পালিয়ে যাইনি।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে ১১ জনকে হত্যা করা হয়েছে, এটা করেছে র‌্যাব। এত বড় ঘটনার পরে র‌্যাব প্রধানের এখনো চাকরি থাকে কিভাবে? র‌্যাবকে ‘মানুষ হত্যায়’ ব্যবহার করা হচ্ছে অভিযোগ করে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতারের দাবি জানান খালেদা জিয়া।

র‌্যাবের বিরুদ্ধে হত্যা ও গুমের অভিযোগ তুলে খালেদা বলেন, এই বাহিনী এখন পর্যন্ত ৩১০ জন বিএনপি নেতাকে হত্যা এবং ৫৬ জনকে গুম করেছে।

জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ও সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের দাবি জানান তিনি।
এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে খালেদা জিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা মঞ্চে উঠলে দলের নেতা-কর্মীরা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়। মঞ্চে উঠেই হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের অভিনন্দনের জবাব দেন তিনি।
বিকাল ৩টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশ শুরু হয়।