চাকরি হারাতে পারেন ৪ সচিব

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১২:৩৪
 দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে জাল প্রমাণিত হওয়ায় তিনজন সচিব ও একজন যুগ্ম সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হয়েছে। তাছাড়া সনদ গ্রহণে যথাযথ নিয়ম রক্ষা না হওয়ায় সাবেক সিনিয়র সচিব, বর্তমানে বেসরকারিকরণ কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানের মুক্তিযোদ্ধা সনদ স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল বা স্থগিত করে গেজেট প্রকাশ করে। একই সঙ্গে তারা এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কবি কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী গতকাল সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারন করা হবে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র গতকাল রাতে ইত্তেফাককে জানিয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এসব কর্মকর্তার ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। 
আইন অনুযায়ী এ ধরনের জালিয়াতির সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরিচ্যুতি। তাছাড়া মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরেরও সুযোগ রয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। ইতিপূর্বে একই কারণে ১৮২ জন সরকারি কর্মকর্তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করা হয়।
এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিশেষ গেরিলা বাহিনীর সদস্য সংবলিত দুই হাজার ৩৬৭ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি তালিকা বাতিল করা হবে কি-না সে বিষয়ে জামুকার আগামী বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে বলে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ২০১৩ সালের চার আগস্ট জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই তালিকা গেজেটভুক্ত করা হয়েছিল। জামুকার গত বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত হয়নি। এ তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে নিয়ম রক্ষা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল যাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে তারা হলেন স্বাস্থ্যসচিব এম নিয়াজউদ্দিন মিঞা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব (বর্তমানে ওএসডি) কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকী, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব একেএম আমির হোসেন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ওএসডি) আবুল কাশেম তালুকদার। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানের (বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বেসরকারিকরণ কমিশনের চেয়ারম্যান) মুক্তিযোদ্ধা সনদ স্থগিত রাখা হয়েছে। জামুকার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিনি আপিল করার সুযোগ পাবেন। তার সনদের বিষয়ে যে অভিযোগ রয়েছে তা হলো:সনদ দেয়ার প্রক্রিয়ায় এনএসআই-এর যাচাই-বাছাই প্রতিবেদন নেয়নি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীর অসদাচরণের সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরিচ্যুতি। এ ছাড়া পদাবনতি, বার্ষিক প্রণোদনা স্থগিত এবং তিরস্কারের বিধানও রয়েছে। আইনে বলা আছে, যদি কোনো সরকারি কর্মচারী প্রকাশ্যে এমন আচরণ করে যা অশোভন বলে প্রতীয়মান হয়, সেটি তার জন্য অসদাচরণ বলে গণ্য হবে।
জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া ও তথ্য গোপন করে সনদ নেয়ার ঘটনাকে অসদাচরণ বলে গণ্য করে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতিপূর্বে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনে এতবড় কেলেঙ্কারির ঘটনা এই প্রথম। এ ঘটনায় প্রশাসনের অধঃস্তনরাও লজ্জায় ডুবেছেন। গতকাল সচিবালয়ে এটিই ছিল আলোচনার বিষয়।