স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশ বেশ কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী অর্জন করলেও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি অগ্রগতির পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন। স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘জনসংখ্যা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহীত কর্মসূচি মূল্যায়ন’ বিষয়ক জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভার এক বিশেষ অধিবেশনে বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সময় জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের সাফল্য এবং সহস্রাব্দ লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনসমূহ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কমিউনিটি ক্লিনিক সফলভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূর-দৃষ্টিসম্পন্ন উদ্যোগ ও আন্তরিকতায় গ্রামে গ্রামে প্রতি ৬ হাজার মানুষের জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক কাজ করছে। পাশাপাশি সারাদেশে প্রায় চার হাজার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে জনসংখ্যা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৭ ভাগ, যা আরো কমানোর জন্য নানামুখী কর্মসূচি ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বাল্য বিবাহকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে অন্যতম বাধা হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, সম্প্রতি বাল্যবিবাহ রোধকল্পে বিদ্যমান অর্জনের সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যেখানে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতির পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, নারী শিক্ষার প্রসার, লিঙ্গ সমতার উন্নয়ন, কৃষি ও জ্বালানি খাতের বিকাশে বাংলাদেশের টেকসই অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামাজিক উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হতে চলেছে। একটি মধ্যম আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাংলাদেশের চাহিদা ও চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে জাতিসংঘসহ সকল আন্তর্জাতিক ফোরামের কর্মকৌশল নির্ধারণ করার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে ২০১৫ পরবর্তী ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সম্পর্কিত বিদ্যমান এবং আসন্ন চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় আনা প্রয়োজন।
বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের সরকার প্রধানসহ ৯০ দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ এই অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৯তম সভায় যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে মোহাম্মদ নাসিম গত ১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যান।
