চাকরি দেয়ার নামে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে নারীসহ তিনজনকে এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগরে এই অভিযান চালানো হয়। দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন—মেরাজ হোসেন তুষার, সহিদুল আলম ও সুবর্ণা আক্তার। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিতেন।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশা জানান, বিজয়নগরের ২৪/এ নম্বর ভবন স্কাইল্যান্ডস পয়েন্টের নবম তলায় গোল্ড স্টার গ্রুপ নামে ভুয়া চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়। তারা বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে নানা অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিল। তারা প্রত্যেকের কাছ থেকে সার্ভিস চার্জ বাবদ তিন-চার হাজার টাকা এবং জামানত হিসেবে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নেয়। এ ভাবে প্রশিক্ষণ ফিসহ নানা খাতের কথা বলে টাকা নিয়ে চাকরি দেয়ার নামে টালবাহানা করে আসছিল চক্রটি। প্রতারণার সুবিধার্থে তারা কিছুদিন পরপর তাদের কার্যালয় পরিবর্তন করত।
র্যাব জানায়, বিজয়নগরের কার্যালয়ে অভিযান চালানোর সময়ও ১৫/২০ জন চাকরির জন্য টাকা জমা দিতে এসেছিলেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেরাজ হোসেন তুষারসহ অন্য দুজনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাস কারাদন্ডের আদেশও দেয়া হয়। দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অপর দুজন হলেন পরিচালক সুবর্ণা আক্তার ও জেনারেল ম্যানেজার সহিদুল আলম। অভিযান পরিচালনা করেন র্যাব-৩-এর মেজর কামরান কবির উদ্দিন।
মেরাজ হোসেন তুষার জানান, তিনি আগে ইসলামপুরের কাপড়ের দোকানে চার হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতেন। পরে কিছুদিন বাবার সঙ্গে গুলিস্তানে ফল বিক্রি করেছেন। সম্প্রতি তৃষা নামের একটি গ্রুপের তারেকের কাছ থেকে প্রতারণার কৌশল শেখেন। এরপর তৃষা গ্রুপের পিয়ন আরিফকে সঙ্গে নিয়ে এই প্রতারণা শুরু করেন।
