মতিঝিলের ২৭ নম্বর দিলকুশায় বেদখলে থাকা সানমুন স্টার টাওয়ারের প্রথম পাঁচটি ফ্লোরের দখল বুঝে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ সিটির তথ্য অনুযায়ী মিজানুর রহমানের মালিকানাধীন সানমুন গ্রুপ এত দিন অবৈধভাবে ওই ফ্লোরগুলো দখল করে রেখেছিল। ৩০তলা ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় ছিল ওই গ্রুপের পত্রিকা দৈনিক বর্তমানের কার্যালয়। মঙ্গলবার সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতুল মণ্ডলের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ‘অবৈধ দখল’ উচ্ছেদ করে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এ সময়ে পত্রিকার সব সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে রাস্তায় নামিয়ে পত্রিকাটির কার্যালয়ের দখল নেয় ডিএসসিসি। পত্রিকাটিতে কর্মরত সাংবাদিকদের অভিযোগ— আগে থেকে কোনো নোটিস না দিয়েই পুলিশের সহায়তায় পত্রিকা অফিস দখল করতে আসে ডিএসসিসি। মালামাল ও কাগজপত্র নামিয়ে নেওয়ার জন্য পাঁচ মিনিট সময় দেয়া হয়।
ডিসিসির (দক্ষিণ) জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, মতিঝিলে বহুতল ভবন সানমুন টাওয়ারের একতলা থেকে পঞ্চম তলার নিজস্ব মালিকানা বুঝে নিয়েছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (দক্ষিণ)। ওই পাঁচটি তলা সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন। সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সানমুন গ্রুপ ফ্লোরগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছিল না।
বর্তমান পত্রিকার সাংবাদিকরা জানান, ‘কোনো পূর্ব নোটিস ছাড়াই দুই শতাধিক সাংবাদিককে রাস্তায় নামিয়ে দিল সিটি করপোরেশন। অন্যান্য দিনের মতই মঙ্গলবার অফিসে আসার পর হঠাত্ করে সিটি করপোরেশন অফিস দখল করে নেয়। সাংবাদিকরা তাড়াহুড়া করে মালামাল নামিয়ে আনে। সব মালামাল নামাতেও পারেনি।
এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনছার আলী বলেন, ‘আমাদের সম্পত্তি আমরা দখলে নিয়েছি, সেখানে গণমাধ্যমের অফিস ছিল, না অন্য কিছুর অফিস ছিল সেটা দেখার বিষয় না। তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ভবন অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ডিএসসিসির নিয়মিত সভায় ‘সানমুন টাওয়ার’ নিজেদের দখলে বুঝে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসসিসি। ওই সভার সভাপতিত্বে করেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. ইব্রাহীম হোসেন খান।
সানমুন টাওয়ার নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা ও এম আর ট্রেডিংয়ের মালিক মো. মিজানুর রহমানসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২৯ মার্চ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। শাহবাগ থানায় দায়ের করা ওই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ৮২৭ কোটি টাকা ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়। মঙ্গলবার ওই মামলায় খোকাসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও অনুমোদন করেছে দুদক। মামলায় বলা হয়, ওই ভবনের প্রথম পর্যায়ে ৩ তলা পর্যন্ত নির্মাণের জন্য মেসার্স এম আর ট্রেডিংকে ঠিকাদার নিয়োগ করে ডিসিসি। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩ তলা এবং তৃতীয় পর্যায়ে কার পার্কিংসহ আরো ২০টি তলা নির্মাণের জন্যও তারা কাজ পায়। এরপর ডিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত পুনর্মূল্যায়ন কমিটি ডিসিসিকে ৩০ শতাংশ এবং নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে ৭০ শতাংশ শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর নির্মাণ প্রতিষ্ঠান নিজস্ব টাকা ব্যয় না করে অগ্রিম অর্থ নিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রির মাধ্যমে নির্মাণকাজ শেষ করে। ডিসিসি নিজেই ওই পদ্ধতিতে নির্মাণকাজ শেষ করে পুরো ভবনের মালিকানা রাখতে পারত বলে দুদক মনে করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ডিসিসি তা না করে ওই সম্পত্তির (ভবন) বাজার মূল্য হিসাবে সরকারের ৮২৭ কোটি টাকার ক্ষতি করেছে।
