রাবিতে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৭:৩৬
 
 
 
টানা বৃষ্টিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস জুড়ে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যায়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া জলাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য। ক্যাম্পাসে প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি বলে জানা গেছে। এনিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে ক্যাম্পাসে প্রয়োজনীয় ড্রেন নির্মাণের দায়িত্বে নিয়োজিত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) সম্পূর্ণ উদাসীন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট থেকি বিপুল পরিমাণ ট্যাক্স আদায় করলেও ক্যাম্পাসে ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণ এবং মশক নিধনসহ উন্নয়ন ও সেবামূলক কোনো কাজই করেনা বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।   
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে রাবি বাস স্ট্যান্ড, টুকিটাকি চত্ত্বর, পরিবহণ মার্কেটের সামনে, শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে, স্টেশন বাজার, শের-ই-বাংলা হলের সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। মাত্র ৫-৭ মিনিটের বৃষ্টিতেই এসব জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় বাসস্টান্ড ও টুকিটাকি চত্ত্বরের। রাবি বাস স্ট্যান্ডের সমস্ত জায়গায় খানা-খন্দ। টানা বৃষ্টিতে গোটা বাস স্ট্যান্ড জুড়ে একহাটু পানি জমে রয়েছে। জমে থাকা পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কোনো কোনো জায়গা প্রচন্ড কর্দমাক্ত। বাস স্ট্যান্ডের ভেতর এক দিক থেকে আরেক দিকে যাতায়াতের কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া বৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা, বিনোদপুর গেট, তুঁতবাগান সংলগ্ন রাস্তা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনের চত্বর, ইবলিশ চত্বরেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিষ্কাশনের অভাবে এসব জলাবদ্ধতা বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী রেশাদ ইকবাল শোভন বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই বিশ্ববিদ্যালয় বাস স্টান্ডের চিত্র পাল্টে যায়। তখন আর সেখানে দাঁড়ানোর অবস্থাও থাকে না। পানি-কাঁদার উপর দিয়ে গিয়ে অনেক কষ্ট করে বাসে উঠতে হয়। অনেক সময় ক্যাম্পাসে এসেই কাপড়-চোপড় নোংরা হয়ে যায়। ওই অবস্থায়ই শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয়।’
আরেক শিক্ষার্থী বিপ্লব খান বলেন, ‘প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি আমাদের ক্যাম্পাস মতিহার সবুজ চত্ত্বর। কিন্তু বর্ষা মৌসুম এলে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য আর থাকে না। জলাবদ্ধতার কারণে ক্যাম্পাসের সব সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এমন বেহাল দশা মেনে নেয়া যায় না।’ দ্রুত ক্যাম্পাসের জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি। 
এ ব্যাপারে রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিন মাতিন বলেন, ‘বৃষ্টি হলে বাস স্ট্যান্ডসহ ক্যাম্পাসের কিছু জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এটি আমিও দেখেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।’