তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বাংলাদেশে নিরপেক্ষতার ভান করে একটি গোষ্ঠী জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এই অশুভশক্তির অপচেষ্টার ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। বুধবার সকালে রাজধানীর বনানীতে সনাতন ধর্মের শুভ মহালয়া উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
দুর্গোত্সবে দেবী পক্ষের শুভারম্ভ উদ্যাাপন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা পরিষদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসানুল হক ইনু বলেন, যারা নিরপেক্ষতার ভাণ করেন তারা মূলত জঙ্গিবাদ, সামরিকতন্ত্র ও পাকিস্তানের পক্ষ নেন। যেসব নেতা-নেত্রী এখনো জঙ্গিবাদকে আশ্রয় দিচ্ছেন, সাম্প্র্রদায়িকতাকে আশ্রয় দিচ্ছেন, বিভাজনকে লালন করছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ হলো সাম্প্র্রদায়িক সম্প্রীতির তীর্থভূমি। এখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই ন্যায় ও গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করতে পারবেন। তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গোত্সবে ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের সব ব্যবধান অতিক্রম করে এক অসামান্য একাত্মবোধে বাংলাদেশের মানুষ একাত্ম হয়। এ উত্সব মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্বের এক অপূর্ব মহাযজ্ঞে রূপ নেয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, শারদীয় দুর্গোত্সবে মা দুর্গা অসুরকে বধ করে মর্ত্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দুর্গাদেবীর আগমনের অর্থ ‘অসুর’ ও ‘মন্দ’-এর পরাজয় এবং ‘সুন্দর’ ও ‘ভালো’র বিজয়। তেমনি আজ আমরা বাংলাদেশকে অসুরমুক্ত করতে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্র্রদায়িকতার বিরুদ্ধে শেষ লড়াইটা লড়ছি। এ লড়াইয়ে জিততে জঙ্গিবাদমুক্ত ও অসাম্প্র্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ন্যায় ও গণতন্ত্রের পক্ষে সকলকে কাজ করতে হবে।
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, হয় গণতন্ত্রের পক্ষে থাকবেন, নয় জঙ্গীবাদ-সাম্প্র্রদায়িকতা-সামরিকতন্ত্রের পক্ষে থাকবেন। হয় বাংলাদেশের পক্ষে থাকতে হবে, নয় তো পাকিস্তানের পক্ষে। মাঝখান দিয়ে হাঁটার চেষ্টা করার অর্থ পক্ষান্তরে রাজাকার-পাকিস্তানিদের সমর্থন দেয়া। ন্যায় আর অন্যায়ের লড়াইয়ে মাঝামাঝি কোনো পথ নেই।
পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি কানুতোষ মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়, শিল্পী ও নৃত্যনাট্য পরিচালক মনোজ সেনগুপ্ত প্রমুখ। অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় সংগীত, আবৃতি ও নৃত্য।
