কেরানীগঞ্জে চার খুন: পরিচয় মিলেছে,শনাক্ত হয়নি ঘাতক

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২০:২৩
 
কেরানীগঞ্জে ফ্ল্যাট বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া চার লাশের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন পঞ্চগড় জেলার বাসিন্দা ট্রাক  ও সিএনজি অটোরিকশা চালক সাজু আহমদ (৩৫), তার স্ত্রী  রাজিয়া  বেগম ওরফে রঞ্জি  (২৭) ও তাদের দুই সন্তান ইমরান (৭) এবং সানজিদা (৩)।
উদ্ধারের ৩০ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার বিকালে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল হাসপাতাল মর্গে লাশ শনাক্ত করেন স্বজনরা।
এ ঘটনায় নিহত সাজুর বড় ভাই বশির উদ্দিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আসামি অজ্ঞাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ ঘাতকদের শনাক্ত  বা জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করতে পারেনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা ডিবি, র্যাব ও সিআইডির সদস্যরা কাজ করছে।
হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশ ধারণা করছেন, মাদক ব্যবসা বা ডাকাতির মালামাল ভাগাভাগির বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হতে পারে। তবে স্বজনদের দাবি অন্য কোন কারণে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে দক্ষিন কেরানীগঞ্জের  আব্দুল্লাপুর কালাকান্দি এলাকার একটি ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ স্বামী-স্ত্রী ও দুই শিশুর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে। পুলিশের ধারনা তাদেরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়। এরমধ্যে একটি কাগজে পাওয়া যায় চারটি মোবাইল ফোন নম্বর। ঐ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিহত সাজুর এক আত্মীয় সঙ্গে যোগাযোগ হয়। নিহতদের সর্ম্পকে বর্ননা দেয়ার পর তারা পরিচয় নিশ্চিত করে।
হত্যার কারণ সম্পর্তে পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনাস্থল বেশ কিছু মাদক উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রাপ্ত তথ্যে যতটুকা জানা সম্বব হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে, নিহত সাজু কোন সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য ছিল। ভাগাভাগি অথবা অভ্যান্তরিন কোন্দলের জের ধরে প্রতিপক্ষ গ্রুপ সাজুকে হত্যা করে। আর ঘটনার সাক্ষী না রাখার জন্যই হত্যা করা হয় সাজুর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে। তবে সব বিষয় মাথায় নিয়ে তদন্ত চলছে। আশা করি খুব অল্প সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটিত হবে।