ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী ইংরেজি বিভাগে ভর্তিতে যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেছেন মাত্র দুই জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। বিভাগের ১৫০ আসনের মধ্যে ১২৫ জন ‘খ’ ইউনিট থেকে ভর্তির নিয়ম রয়েছে। এ অবস্থায় ভর্তি পরীক্ষায় ‘যোগ্যতাসম্পন্ন’ শিক্ষার্থী না পাওয়ায় বিকল্প উপায় খুঁজছে কর্তৃপক্ষ।
এ বছর ইংরেজি বিভাগে ভর্তির জন্য নতুন শর্ত আরোপ করায় এবং এ শর্ত সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট ধারণা না থাকায় এ ফল বিপর্যয় হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এবার ইংরেজি বিভাগে ভর্তির শর্ত হিসেবে এসএসসি ও এইচএসসিতে ইংরেজিতে ২০০ নম্বর এবং ভর্তি পরীক্ষায় বাধ্যতামূলকভাবে ‘ইলেকটিভ ইংলিশ’ অংশের উত্তর করার বিধান রাখা হয়। একইসঙ্গে ইংরেজি বিভাগে ভর্তির জন্য ভর্তি পরীক্ষায় ‘সাধারণ ইংরেজিতে’ ২০ এবং ‘ইলেকটিভ ইংলিশে’ ১৫ পাওয়ারও শর্ত নির্ধারণ করা হয়। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তিন হাজার ৮৭৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র দুই জন এ শর্ত পূরণ করতে পেরেছেন।
কলা অনুষদের নোটিশ বোর্ডে টাঙানো ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মেধাক্রম ৩-এ থাকা জান্নাতুল ফেরদৌস দোলা এবং মেধাক্রম ১০৬-এ থাকা শাহবাজ আমিন ভূঁইয়া ইংরেজি বিভাগে ভর্তির শর্ত পূরণ করতে পেরেছেন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ১৭ জন ইলেকটিভ ইংলিশ অংশে উত্তর দিলেও ১৫ জনই এ অংশের ১৫ নম্বর প্রাপ্তির শর্ত পূরণ করতে পারেননি।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। দুই হাজার ২২১ আসনের বিপরীতে পাস করেন মাত্র তিন হাজার ৮৭৪ জন শিক্ষার্থী। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন মোট ৪০ হাজার ৫৬৫জন। মোট পরিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় এক হাজার ৭০০জন ইলেকটিভ ইংলিশ অংশে উত্তর করেছেন।
‘খ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সদরুল আমিন বলেন, আমরা একটি আসনও খালি রাখব না। তবে সেটা কীভাবে হবে- পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। শর্তগুলো কিছুটা শিথিল করে হলেও আসন পূর্ণ করার ইঙ্গিত দেন তিনি। এ বিষয়টি নির্ধারণে তিনি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকদের সাথে বৈঠকও করেছেন।
সভা শেষে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক তাহমিনা আহমেদ বলেন, যেহেতু ভর্তি পরীক্ষায় চাহিদামত শিক্ষার্থী নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারেনি, সেহেতু আমরা বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছি। সভায় উপস্থিত সবাই ভর্তির শর্ত শিথিল করার পক্ষে মত দিয়েছেন। আমরা শর্ত শিথিলের প্রস্তাব ভর্তি কমিটির কাছে পাঠাব।
