মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা যুবলীগের ক্রীড়া সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক (৩২) বৃহস্পতিবার সকালে অপহৃত হয়েছে। লৌহজং থানার ওসি মো. তোফাজ্জল হোসেন রাতে জানান, স্থানীয় কাজির পাগলা চিতাখোলার ঘরের সামনে থেকে বিকালে রফিকের ব্যবহূত সেন্ডেল ও অহরণকারীদের ব্যবহৃত ৩টি মুখোশ জব্দ করা হয়। সেখানে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দেখা গেছে। পুলিশের আশঙ্কা অপহরেণর পর তাকে হত্যা হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিক প্রতি দিনের মত ঢাকার ইসলামপুরের কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বাড়ির প্রায় দেড় শ’ মিটার দূরের কাজীর পাগলা কাদের সড়ক থেকে সকাল সাড়ে ৮টায় ওত্ পেতে থাকা সাদা রংয়ের একটি মাইক্রোবাসে কৌশলে তাকে তুলে নিয়ে মাওয়ার দিকে যায়। পরে সকাল ১০টার মাইক্রোবাসটিকে আবার চন্দ্রেরবাড়ি সড়ক দিয়ে কাজীরপাগলার চিতাখোলায় যায়। অপহরণের স্থান থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের নির্জন চিতাখোলা থেকে পরে আবার একটি নৌকায় করে মৌছামান্দ্রার দিকে হয়ত রফিককে নেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ভ্যান চালক রাজা মিয়া জানান, মাইক্রোটিতে কৌশলে তাকে উঠানো হয়। মাইক্রোতে তার পূর্ব পরিচিত লোকজন ছিল। পরে মাইক্রোটিকে চিতাখোলায়ও যেতে দেখেছে কয়েক মহিলা। কিন্তু তখনও কেউ ঘটনা বুঝতে পারেনি। রফিকের সাথে পরিবারের লোকজনের দিনভর যোগাযোগ না হলে তাদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশকে জানানো হয়। ওসি জানান, এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শি কয়েক জনকে জিঞ্জাসাবাদ চলছে।
পুলিশ জানায়, মতিঝিলের ব্যবসায়ী কাদের হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী আওয়ামী লীগ নেতা ও কাজির পাগলা গ্রামের মোবারক হোসেনকে ২০১২ সালে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকান্ডে যুবলীগ নেতা রফিক মোবারকের পরিবারকে মামলা পরিচালনায় সহায়তা করে। ওই মামলার আসামীরা বিভিন্ন সময়ে রফিককে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল। এসব নিয়ে গত ঈদের পরদিনও আসামী পক্ষের তাজুল ইসলাম ব্যাপারীর সাথেও ঝগড়া হয়। এ ঘটনার পর হতে মোবারক হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম এক আসামী তার পরিবারসহ গা ঢাকা দিয়েছে। রফিককে অপহরণ করার পেছনে ঐ খুনের আসামী জড়িত থাকতে পারে বলে পুলিশ ধারনা করছে।
