জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীতে থাকাকালে আমি নাকি পাকিস্তান থেকে ছুটিতে বাংলাদেশে এসেছি এবং কোনো এক কল্পিত আদালতের বিচারক ছিলাম। আমি এই ধরণের জঘন্য মিথ্যাচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই মিথ্যুক মহলটির প্রতি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে চাই, বর্ণিত এই বানোয়াট তথ্যের যদি কেউ প্রমাণ দিতে পারে- তাহলে আমি রাজনীতি থেকে বিদায় নেব, এমনকি দেশ ছেড়েই চলে যাবো।’ ছয়দিনের চীন সফর শেষে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে এক বিবৃতিতে তিনি এ চ্যালেঞ্জ দেন।
বিবৃতিতে এরশাদ বলেন, কিছু মহল মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমার ভূমিকা নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট এবং কল্পনাপ্রসূত তথ্য প্রচার করছে। এই মহলটি কুখ্যাত গোয়েবলসের ফর্মুলা অনুসরণ করছে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা আমার বুকের লালিত স্বপ্ন। দুর্ভাগ্য, সেই স্বাধীনতা যুদ্ধে আমি অংশ নিতে পারিনি। কারণ, যুদ্ধ শুরুর মাত্র এক মাস আগে তত্কালীন পশ্চিম পাকিস্তানে আমাকে পোষ্টিং দেওয়া হয়েছিল। দেশে থাকলে জীবনবাজী রেখে যুদ্ধ করতাম।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এবং স্বাধীনতার পরে পাকিস্তানের বন্দি শিবিরে স্ত্রীসহ আমি এবং বাঙালী সৈনিক ও অফিসাররা অববর্ণনীয় নির্যাতন ও দুর্দশা সহ্য করে বেঁচে ছিলাম। এরপর বঙ্গবন্ধুর কূটনৈতিক সাফল্যে আমরা দেশে ফিরি। দেশে ফেরার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই আমাকে পদোন্নতি দিয়ে আর্মি হেড কোয়ার্টারে এডজুটেন্ড জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনিই আমাকে প্রথমবারের মতো এনডিসি কোর্স করাতে ভারতে পাঠিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু আমাকে জানতেন এবং বুঝতেন বলেই তার কাছ থেকে আমি এই পুরস্কার পেয়েছি। পরবর্তীকালে আমি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছি। ক্ষমতা লাভের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে আমি যা করেছি আর কেউ তা করতে পারেনি। এখন আমাকে নিয়ে যারা বিভ্রান্ত সৃষ্টি করতে চান— তারা কোন পক্ষের হয়ে কাজ করছেন সে ব্যাপারে প্রশ্ন এসে যায়। কেউ যদি বঙ্গবন্ধুর চেয়ে স্বাধীনতার চেতনাপ্রেমী সাজতে চান- সেই সব অতি প্রেমিকদের ব্যাপারে জাতিকে সজাগ থাকতে হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে এরশাদ চীন থেকে দেশে ফেরেন। তার সফরসঙ্গী ছিলেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এরশাদকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন- জাপা নেতা সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, সুনীল শুভরায়, এস এম ফয়সল চিশতী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, শওকত চৌধুরী এমপি, ইয়াহইয়া চৌধুরী এমপি, সালাউদ্দিন আহমেদ মুক্তি এমপি, সুলতান মাহমুদ, শাহ আলম তালুকদার প্রমুখ।
