স্কুল বন্ধ রেখে বিয়ের আয়োজনের জন্য ভাড়া

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০৭:১৩

গতকাল বৃহস্পতিবার মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে একটি বিদ্যালয় বন্ধ রেখে বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য এর প্রাঙ্গণ ভাড়া দেওয়া হয়েছে।  এটি ভাড়া দিয়েছে ব্যবস্থাপনা কমিটি। এই কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন তন্তর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। গতকাল বর ও কনের আত্মীয়স্বজন স্কুল প্রাঙ্গনে এসে ভূরিভোজ করেছেন।

রুসদী উচ্চবিদ্যালয় নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি শ্রীনগর উপজেলার তন্তর ইউনিয়নে অবস্থিত। বিদ্যালয়টিতে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয় বন্ধ রেখে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করার অনুমতি দেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন গতকালই প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান শেখ জানান, ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তেই বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য পাঁচ হাজার টাকায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি তন্তর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন জানান, বাড়িতে যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় কনের বাবা মালেক মিয়া বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ তাঁর কাছে ভাড়া চেয়েছিলেন। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে ব্যবস্থাপনা কমিটি বিয়ে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেয়।
এলাকাবাসী জানান, তন্তর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল মালেকের মেয়ে মিমুন আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ভাড়া নেওয়া হয়। কনের চাচাতো ভাই রাসেল জানান, তাঁরা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেনকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে এক দিনের জন্য বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ভাড়া নেন।
এলাকাবাসী আরও জানান, বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক আগের দিন বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী গতকাল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে রান্নাবান্না শুরু করা হয়। বেলা দুইটা থেকে অতিথিদের আপ্যায়ন করা শুরু হয়। বর ও কনের পক্ষের প্রায় দেড় হাজার অতিথিকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে।
বার্ষিক পরীক্ষার আগে বিদ্যালয় বন্ধ রেখে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি আবদুল জলিল মোল্লা বলেন, বার্ষিক পরীক্ষার আগে বিদ্যালয় বন্ধ রেখে বিয়ের অনুষ্ঠান করা মোটেই ঠিক হয়নি।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বিদ্যালয়ের মাঠে বিশাল প্যান্ডেল করা হয়েছে। সেখানেই গর্ত করে চুলা বানিয়ে অতিথিদের জন্য নানা পদ রান্না করা হচ্ছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজুল হক বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে বিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করার প্রমাণ পেয়েছি। এ জন্য প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহানারা বেগম বলেন, ‘খবর শুনে আমি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তিনি গিয়ে প্রমাণ পেয়ে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। নোটিশের জবাব পাওয়ার পরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’