ঈদুল আজহা ও শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বাড়ি ফিরতে ইচ্ছুক মানুষরা বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট সংগ্রহে ছুটছেন। দূরপাল্লার বেসরকারি বাসের আগাম টিকিট নিয়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ায় ট্রেনের টিকিটের দিকে চেয়ে আছে এখন হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু ট্রেনেরও টিকিট পাওয়া নিয়ে যথেষ্ট শংকায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ। টিকিট চেয়ে মন্ত্রী-এমপি, আমলাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ভিআইপিদের অসংখ্য ডিও লেটার জমেছে রেলওয়ে কার্যালয়ে। এমন পরিস্থিতিতে আজ শুক্রবার থেকে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর ফিরতি টিকিট বিক্রি ৩ অক্টোবর শুরু হয়ে শেষ হবে ৮ অক্টোবর। যাত্রীর যাত্রা শুরু হবে ১ অক্টোবর। এদিকে বিআরটিসির আগাম টিকিট ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রি শুরু হবে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক সম্মেলনে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জানিয়েছিলেন, প্রতি বছরই মুসলিম ও হিন্দু সমপ্রদায়ের দু’টি বড় উত্সব (ঈদুল আজহা ও দুর্গাপূজা) কাছাকাছি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। ফলে বাড়ি ফেরা মানুষের পরিমাণও হয় অনেক বেশি। এজন্য এবার ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ২৬ সেপ্টেম্বর পাওয়া যাবে ১ অক্টোবরের টিকিট। ২৭ সেপ্টেম্বর ২ অক্টোবরের, ২৮ সেপ্টেম্বর ৩ অক্টোবরের, ২৯ সেপ্টেম্বর ৪ অক্টোবরের এবং ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া যাবে ৫ অক্টোবরের আগাম টিকিট। একইভাবে ৩ অক্টোবর পাওয়া যাবে ৭ তারিখের ফিরতি টিকিট। এভাবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। ৮ অক্টোবর পাওয়া যাবে ১১ অক্টোবরে টিকিট। ঈদের দিন টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকবে। প্রতিবারের মতো এবারো একজন চারটির বেশি টিকিট পাবেন না বলে জানান তিনি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈদ ও পূজায় রেলের মোট ৮৪৮টি কোচের সঙ্গে অতিরিক্ত আরও ১৩০টি কোচ মেরামত করে বহরে যুক্ত করা হচ্ছে। সে সঙ্গে চলমান ১৭৮টি ইঞ্জিনের সঙ্গে মেরামতকৃত আরো ৩০টি ইঞ্জিন ঈদের আগেই বহরে যুক্ত হবে। বাড়তি কোচ ও ইঞ্জিন যুক্ত হলে এবার ঈদে অতিরিক্ত ৭০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা যাবে। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন সারাদেশে এক লাখ ৮০ হাজার টিকিট ইস্যু করা হলেও ঈদ ও পূজার কারণে যাত্রী চাপ মোকাবেলায় প্রতিদিন সব ট্রেন মিলিয়ে দুই লাখ ৫০ হাজার টিকিট বিক্রি করা হবে। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন রুটে বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে রেলওয়ে। এই ট্রেনগুলো ঢাকা- দেওয়ানগঞ্জ, ঢাকা-খুলনা, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে ঈদের আগে তিনদিন এবং ঈদের পরে সাতদিন চলবে। এছাড়া ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-শোলাকিয়া রুটে ঈদের দিন দুই জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়রোধে সতর্ক রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এবারও ঈদ-পূজায় ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে রেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। র্যাব, পুলিশ, বিজিবিসহ রেলওয়ের আরও দু’টি নিরাপত্তা বাহিনী যাত্রীদের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। যেখানেই যাত্রী হয়রানি, অজ্ঞান পার্টির তত্পরতা দেখা যাবে সেখানেই যাত্রীদের নিরাপত্তায় সক্রিয় হবে এসব নিরাপত্তা বাহিনী। রেলওয়ের মহাপরিচালক তাফাজ্জল হোসেন বলেন, ঈদে কয়েকগুণ বেশি চাহিদা সৃষ্টি হয়। সে তুলনায় ট্রেনের আসন বাড়ানো সম্ভব হয় না। ফলে সবাইকে টিকিট দেয়া সম্ভব হয় না। তবে নিয়মের বাইরে কোনো টিকিট বিক্রি করা হবে না। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। টিকিট কালোবাজারিও রোধ করা হবে।
