প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ সময় তিনি মার্কিন ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধিতে তার সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। খবর বাসসের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ২০০১ সালে যখণ আমরা ক্ষমতা ছেড়ে যাই, তখন মার্কিন বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিদেশী বিনিয়োগের অগ্রপথিক এইএস-এর মতো কোম্পানিকে সরকার সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে। তারা হরিপুর ও মেঘনা ঘাটে বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন শুরু করে এবং বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, সাত বছর পর ২০০৯ সালে আমার সরকার আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে তখন বাংলাদেশের মার্কিন বিনিয়োগের পরিমাণ ৪ কোটি ডলারে নেমে আসে। গত পাঁচ বছরে তার সরকার বাংলাদেশে সরাসরি মার্কিন বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সম্ভাব্য সব পথ কাজে লাগিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগে দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থানে অবস্থান করছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই বাংলাদেশের মার্কিন বিনিয়োগ এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে যাক।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে আমরা সাফল্যের সঙ্গে মায়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্র সীমা বিরোধ নিষ্পত্তি করেছি। এখন আমরা সমুদ্রে জ্বালানি ও সম্পদ অনুসন্ধানে পুরোপুরি স্বাধীন।
শেখ হাসিনা বলেন,যদি বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর দিয়ে ডিউটি ফ্রি কোটায় পন্য রফতানির সুযোগ পায়,তাহলে রফতানি বৃদ্ধি পাবে এবং টাগেটের চেয়েও মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রফতানি করা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক বছর তাঁর সরকার পোশাক শ্রমিকদের বেতন, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং কাজের পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সাধন করেছে। গত চার বছরে আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশ কয়েকবার তাদের নূন্যতম মজুরি বৃদ্ধি করেছি। ২০০৯ সালে যেখানে তাদের নূন্যতম মজুরি ছিল ১ হাজার ৬শ’ টাকা, সেখানে ২০১৩ সালে তাদের নূন্যতম মজুরি দাঁড়ায় ৫ হাজার ৩শ’ টাকা।
তিনি বলেন, গত বছর আইএলও-এর সঙ্গে আমরা পোশাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য ত্রিপক্ষীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করি এবং ২০০৬ সালের শ্রম আইন সংশোধন করি।
তিনি বলেন, কারখানা পরিদর্শনে সরকার এক হাজার পরিদর্শক নিয়োগ করে। আইএলও-আইএফসি-এর কর্মসূচির আওতায় ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ১০০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৩০-এ দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তি (টিআইসিএফএ) স্বাক্ষর করেছে, যা দু’দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এতে করে আমাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরো বৃদ্ধি পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা সম্প্রসারণ কৌশল ‘সংলাপ অংশীদার’ ফ্রেমওয়ার্কে আওতায় আমরা প্রথমবার প্রবেশ করলাম।
