ওয়েবসাইট করে ইয়াবার বিজ্ঞাপন!

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ০১:০৫

একটি ওয়েবসাইটে মন্তব্যের আড়ালে চলছে ইয়াবার বিজ্ঞাপন। বিক্রেতা, ক্রেতা উভয়েই বেচা-কেনার ইচ্ছার কথা জানিয়ে মুঠোফোন নম্বর আদান-প্রদান করছেন সেখানে।

কানাডা থেকে পরিচালিত ওয়েবসাইটটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো। সাইটটিতে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। সেখানে পাঁচটি পৃষ্ঠায় (পেইজ) দেখা গেছে মন্তব্যের আড়ালে ইয়াবা বেচা-কেনার বিজ্ঞাপন। যেমন: ‘আমি ইয়াবা পাইকারি বিক্রি করি’, ‘সহজেই পাবেন ইয়াবা, যোগাযোগ করুন...’, ‘আমার ইয়াবা দরকার’ ইত্যাদি।
সাইটটিতে ইয়াবার এমন বিজ্ঞাপন প্রথম দেওয়া হয় ২০১১ সালের ১ মার্চ। সর্বশেষটি এ বছরের চলতি মাসের ১৩ তারিখে। সাইটে এমন বিজ্ঞাপনের সংখ্যা শতাধিক। সাইটটিতে ইয়াবা বিক্রির কথা জানিয়ে মুঠোফোন নম্বর দেওয়া এক ব্যক্তি তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন সাফি। ওই মুঠোফোন নম্বরে কয়েক দিন আগে ক্রেতা সেজে যোগাযোগ করলে ওই ব্যক্তি জানতে চান খুচরা না পাইকারি কেনা হবে। পাইকারি জানালে বলেন, ‘আমি তো কুমিল্লায় থাকি। আপনি একটু আগালে আমি গৌরীপুর বা দাউদকান্দি পর্যন্ত যাব। অথবা টাকা পাঠালে কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠিয়ে দিতে পারব।’ দাম জানতে চাইলে বিভিন্ন ধরনের ইয়াবা বড়ির দাম জানান। ঢাকায় তাঁর নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি আছেন কি না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আছে। তবে একটু ঝামেলা হইছে। পরিচিত ছাড়া তাঁদের কারও নম্বর দেই না। আপনি আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন। টাকা পাঠালেই বড়ি পাঠাব।’
নারী নাম দেওয়া একটি মন্তব্যে বলা হয়েছে, তাঁরা কয়েকজন নারী ইয়াবা বিক্রি করছেন। সেখানে থাকা মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে অপর প্রান্ত থেকে এক নারী বলেন, ‘পরে যোগাযোগ করেন।’
ইয়াবা দরকার জানিয়ে সাইটটিতে ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো এক ব্যক্তির মোবাইলে ফোন করলে তিনি বলেন, ‘আমার দরকার ছিল। তাই বিজ্ঞাপন দিয়েছি। পেয়েছি। এখন দরকার নেই।’
বিটিআরসি, পুলিশ জানে না: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন  (বিটিআরসি) ব্যাপারটি জানে কি  না, এ ব্যাপারে কমিশনের মিডিয়া উইংয়ের প্রধান সরোয়ার আলমের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘এমন সাইট থাকলে তা তো ভয়ংকর ব্যাপার। এটি ভয়ংকর রকমের অপরাধ। আমি কর্তৃপক্ষের নজরে আনছি। এ ধরনের সাইট চলতে দেওয়া যায় না।’
বিষয়টি নজরে পড়েনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও। সাইবার অপরাধ নিয়ে কাজ করা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার ছানোয়ার হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, ‘ইন্টারনেটে মাদক ব্যবসা, মুঠোফোন নম্বর ছড়িয়ে হয়রানি করাসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ শুনেছি। তবে নির্দিষ্ট কোনো সাইট নজরে পড়েনি। আমি ওই সাইটটি দেখে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি।’