বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক সামিয়ুন রহমান ওরফে ইবনে হামদানকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবি দাবি করেছে, সিরিয়া ফ্রন্টে সশস্ত্র জিহাদী কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে আইএস ও নুসরা বিগ্রেডের জন্য মুজাহিদ সংগ্রহ করতে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন।
রবিবার রাত সোয়া ১১ টার দিকে রাজধানীর কমলাপুর রেলষ্টেশন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সম্প্রতি আল কায়দার নেতা আইমান আল জাওয়াহিরি কর্তৃক ঘোষিত বাংলাদেশ ও মায়ানমারে জঙ্গি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করাই তার উদ্দেশ্য ছিল বলে ডিবি জানিয়েছে।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ডিবি এই গ্রুপের আসিফ আদনান ওরফে জুলকারনাইন ও ফজলে এলাহি তানজিলকে গ্রেফতার করে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা একিউআইএস (আল কায়দা ইন ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্টে) কার্যক্রম সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ব্রিটিশ নাগরিক সামিয়ুন রহমান ওরফে ইবনে হামদান সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে হামদানকে কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে গ্রেফতার করে। এসময় তার কাছ থেকে ৬টি মোবাইল ফোন, ১টি ব্রিটিশ পাসপোর্ট ও এটিএম কার্ড, ব্যাংক চেক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করে।
ডিবির উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সামিয়ুন আইএস ও নুসরা বিগ্রেডের জন্য মুজাহিদ সংগ্রহ করতে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সিরিয়ায় নুসরা ব্রিগেডের সদস্য হয়ে তিনি জিহাদী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। এই কার্যক্রমে অংশ নিতে তিনি তার এক বন্ধুসহ বৃটেন থেকে তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় যান। জিহাদী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য সক্ষম যুবক সংগ্রহের জন্য সে ইতোপূর্বে মৌরিতানিয়া ও মরক্কো ভ্রমণ করেছেন। পিস টিভির উপস্থাপক এন্থনি’র ফেসবুকের ফ্যান পেজের সূত্র ধরে বাংলাদেশ থেকে সিরিয়ায় জিহাদে অংশ গ্রহণে ইচ্ছুক বাংলাদেশি নাগরিক আসিফ আদনান ওরফে জুলকারনাইনের সাথে তার পরিচয় হয়। বাংলাদেশ থেকে সিরিয়ায় মুজাহিদ পাঠানোর জন্য গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে হামদান পুনরায় বাংলাদেশে আসেন। আসিফ আদনান, ফজলে এলাহি তানজিল, সেকান্দর আলী নকি ও তাসনিম ওরফে নাহিদের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে সিরিয়ায় একটি জিহাদি টিম পাঠানোর পরিকল্পনা করেন। এ বিষয়ে তার উদ্দেশ্য ছিল সিরিয়ায় জিহাদি কার্যক্রম শেষে বাংলাদেশ ও মায়ানমারে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক স্থাপন করা। এ সংক্রান্তে তাদের যোগাযোগ সম্পর্কিত কয়েকটি এসএমএস মোবাইল ফোন থেকে পাওয়া গিয়েছে।
ডিবি আরো জানায়, গ্রেফতারকৃত সামিয়ুন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানায় যে, আসিফ আদনান ওরফে জুলকারনাইন, জাবের, আবু নায়না, আব্দুল করিম ও আব্দুল্লাহ তার সহযোগী ছিল। গ্রেফতারকৃত সামিয়ুন রহমান ওরফে ইবনে হামদান যুক্তরাজ্যে বসবাস করতেন। বাংলাদেশে ইসলামী শরিয়া ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রবর্তন করাও তাদের উদ্দেশ ছিল। ইবনে হামদানের নেতৃত্বেই সশস্ত্র জিহাদের জন্য তারা প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলেন বলে বাকিরা স্বীকার করেন।
