র‌্যাবের ডিজিকে দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ২০:১৬



নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনা সম্পর্কে যা সত্য, তাই জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের তদন্ত কমিটিকে বলেছেন বলে দাবি করেছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান। সোমবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। যেহেতু আমি র‌্যাবের ডিজি। সে কারণে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা বাঞ্ছণীয়। আমার কাছে যা জানতে চেয়েছে আমি সব কিছুই বলেছি। যেটা সত্য সেসব কিছুই আমি বলেছি।’
কমিটির আহ্বায়ক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লার কক্ষে দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা র‌্যাবের ডিজিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় সম্পর্কে কমিটিকে বলেছেন জানতে চাইলে র‌্যাবের ডিজি বলেন, ‘যেহেতু কমিটি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সেহেতু সব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। সব বিষয়েই বলেছি।’ র‌্যাবের ভাবমূর্তি জড়িত তাই আপনি কী সুপারিশ দিয়েছেন জানতে চাইলে র‌্যাবের ডিজি বলেন, ‘র‌্যাবের স্বচ্ছতা আছে, র‌্যাব যেটা সত্য সেটাই করে। র‌্যাব আইন, ন্যায় ও সত্যের পথে সব সময় থাকে। এটা আমি বলেছি। আমার কাছে যা জানতে চেয়েছে আমি তাই বলেছি।’
এদিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেনো না হয়, সে পরামর্শ দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, র‌্যাবের কিছু সদস্যের নাম এসেছে। তারা মামলার আসামি এবং গ্রেফতার রয়েছেন। ভবিষ্যতে যাতে এ রকম ঘটনা না ঘটে আমরা সেই পরামর্শ দিয়েছি। যা সত্য তাই উনি বলেছেন।’
চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেতে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই রিপোর্ট দ্রুত দেয়া হবে। এ বিষয়ে তদন্তের প্রায় শেষের দিকে বলে জানান তিনি।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। লাশ উদ্ধারের পর হাইকোর্টের নির্দেশে গত ৬ মে অভিযোগ তদন্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লাকে প্রধান করে সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে সরকার।
এ ঘটনায় র‌্যাব-১১ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল তারেক সাঈদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এম মাসুদ রানাকে র‌্যাব থেকে সরিয়ে নিজ বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। আদালতের নির্দেশে চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হয়। রিমান্ডে র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তারা সাত খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।