কোরবানির গরু ক্রয়ে সাবধানতা

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১১:৩৪

ঈদ-উল-আজহা সমাগত। এই উপলক্ষে ঘরে ঘরে চলিতেছে নানান প্রস্তুতি। কোরবানির উদ্দেশ্যে যে যাহার মত করিয়া সাধ্যানুযায়ী পশু কিনিতে শুরু করিয়াছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বসিয়াছে পশুর হাট। এক জরিপে জানা যায়, এই বত্সর গরু ও ছাগল মিলাইয়া সারাদেশে পশুর চাহিদা মোট প্রায় আশি লক্ষ। ইহার মধ্যে গরুর চাহিদা প্রায় ত্রিশ লক্ষ। তবে সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি থাকায় বিগত বত্সরগুলির ন্যায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত হইতে এইবারও কিছু গরু আমদানির অনুমোদন দিয়াছে বিজিবি। এই সুযোগে এবং দাম কম হওয়ায় ঘাটতির তুলনায় বহুগুণ বেশি গরু আমদানির খবর পাওয়া যায়। ফলে দেশি গরুর দাম পড়িয়া যাইবার আশঙ্কা রহিয়াছে। গত বত্সর কোরবানির ঈদ সামনে রাখিয়া দেশি গরুর চাহিদা কমিয়া যাওয়ায় অনেক গরু অবিক্রীত রহিয়া যায়। এজন্য এই বত্সর রুগ্ণ ও ওজনে কম এমন দেশি গরু আকর্ষণীয় এবং মোটাতাজা করিতে ঔষধ ও ইনজেকশন বেপরোয়া ব্যবহারের প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়াছে একশ্রেণির খামারি ও ব্যবসায়ীর মধ্যে। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর স্টেরয়েড ড্রাগের উত্পাদন ও ব্যবহারে ইদানীং বেশ তত্পর হইয়া উঠিয়াছে এই মহলটি। শতকরা কমপক্ষে পাঁচটি গরুর শরীরে এ ধরনের অনুমোদনহীন রাসায়নিকের ব্যবহার হইতেছে বলিয়া জানাইয়াছেন গবেষণা পরিচালনাকারী একাধিক সংস্থা। শতকরা হিসাবে ইহার হার অল্প হইলেও সামষ্টিক হিসাবে এই সংখ্যা মোটেই কম নহে।

এমনিতেই নিত্য আহার্য নানা খাদ্যে ভেজাল এবং ফরমালিনের ব্যবহার মানুষকে যারপরনাই ভাবাইয়া তুলিয়াছে। তাহার উপর কোরবানির পশুর শরীরে মানবদেহের জন্য হানিকর এমন রাসায়নিকের ব্যবহারে সাধারণ মানুষ যেমন ক্ষুব্ধ তেমনি উদ্বিগ্নও। ফলে গরু কিনিবার ব্যপারে সন্দিহান হইয়া পড়িয়াছে ক্রেতাদের এক বিরাট অংশ, যাহার মূল্য দিতে হইতেছে সত্ ও দরিদ্র খামারি কিংবা ব্যবসায়ীদের। অথচ মুনাফালোভী এবং অসাধু ফড়িয়া বেপারীদের যে চক্রটি ঈদের পনের হইতে বিশ দিন পূর্বে এই ঔষধের ব্যবহার করিতেছে তাহারা একরকম ধরাছোঁয়ার বাহিরে। গরু মোটাতাজা করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি থাকিলেও হীন স্বার্থান্বেষীদের মধ্যে সেই পন্থা অনুসরণ করিবার সদিচ্ছা দেখা যায় না।

গবাদি পশুর মুখে রুচি আনয়ন বা পেটের কৃমি নাশের জন্য চিকিত্সক নির্দেশিত বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন জাতীয় ঔষধ ও ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়। সুতরাং ঔষধ ব্যবহূত হইলেই যে তাহা ক্ষতিকর এমন ভুল ধারণা পোষণ উচিত হইবে না। মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ঔষধ ব্যবহার করা হইয়াছে এমন গরু চিনিবার কয়েকটি সহজ পদ্ধতি জানাইয়াছেন পশু চিকিত্সক ও বিশেষজ্ঞগণ। ক্রয়কালে কেবল একটু সাবধান হইলেই এ ধরনের গরু চিহ্নিত করা যায় খুব সহজেই। কাজেই দুশ্চিন্তা না করিয়া কেবল একটু সতর্ক থাকিলেই ঠকিবার আশংকা নাই একদমই। ইহাতে অসাধু ব্যবসায়ীরাও ভবিষ্যতে এরকম অসদুপায় অবলম্বনে নিরুত্সাহিত হইবে। অন্যদিকে অনুমোদনহীনভাবে যাহারা এই ধরনের ঔষধ উত্পাদনের সহিত জড়িত তাহাদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনিতে হইবে। কোরবানির ঈদ হউক দুশ্চিন্তামুক্ত। এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের।