কেরানীগঞ্জে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত ব্যবসায়ী আরমান হোসেন (৩৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এশিয়ান কার্ডিয়াক হাসপাতালে তিনি মারা যান। সোমবার রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ছোট মসজিদ রোডে নিজ বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন আরমান। গুলি তার মাথায় বিদ্ধ হয়। রাতেই তাকে ভর্তি করা হয় স্যার সল্লিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফাৈর্ড) হাসপাতালে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা অবনতি হলে মোহাম্মদপুর এশিয়ান কার্ডিয়াক হাসপাতালে। পুলিশ জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমির, আব্দুল গনি, নুর ইসলাম নামে তিনজনকে আটক করেছে।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের মোটিব সস্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগির বিরোধ নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটছে।
প্রত্যক্ষদশীরা জানান, সোমবার রাত পৌনে ৯টার সময় নিহত আরমান বাড়ির সামনে আগানগর ছোট মসজিদ রোড এলাকায় ফারিয়া প্লাজা মার্কেটের নিচ তলার সিঁড়ির মধ্যে বসে নুর ইসলাম নামের এক বন্ধুর সাথে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলি তার মাথায় বিদ্ধ হয়। নিহত আরমান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধিন আগানগর ছোট মসজিদ রোড এলাকার মৃত সেরু মিয়ার ছেলে।
নিহতের ছোট ভাই সোহেল বলেন, ‘আমার ভাই গার্মেন্ট ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। একসময় তিনি আগানগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। তার সাথে মামা বাবুলের সাথে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেড় ধরে মামা বাবুল এবং তার ছেলে শাকিল একাধিকবার আমার ভাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। এ ঘটনায় আমি নিজে বাদী হয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়রি করি। আমার ধারনা, মামা বাবুল এবং তার ছেলে শাকিল লোকজন দিয়ে আমার ভাইকে হত্যা করেছে।’
এ দিকে, ব্যবসায়ী আরমানের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। আরমানকে একনজর দেখতে তার বাড়িতে শত শত মানুষ ভিড় করে। এ ঘটনায় পশ্চিম আগানগর গার্মেন্ট দোকান মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, ‘যারাই এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত, তাদের বিচার চাই। তবে নিরাপরাধ কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানির স্বীকার না হয়, সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানাই।’
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ‘কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসবাদের জন্য নিহত আরমানের বন্ধু নুর ইসলাম, আমীর ও আব্দুল নামে দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। তবে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।’
