ইসলামের অবমাননা ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন উল্লেখ করে অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে উপযুক্ত শাস্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। আর বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীর মতো বিভিন্ন সময়ে বেসামাল কথা বলা বর্তমান সরকারের অন্য সদস্যদেরও মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিতে হবে। অন্য দিকে, বিএনএফ চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ এমপি বলেছেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন।’ মঙ্গলবার পৃথক বিবৃতিতে তারা এ সব কথা বলেন।
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে: এরশাদ
এরশাদ তার বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসলামের চার স্তম্ভের অন্যতম হজ। তা নিয়ে লতিফ সিদ্দিকী যে জঘন্য ও কুিসত মন্তব্য করেছেন এর নিন্দা প্রকাশেরও ভাষা আমার জানা নেই। হজের ব্যাপারে আজ পর্যন্ত অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীরাও এ ধরনের কুিসত মন্তব্য করেননি। তিনি শুধু বাংলাদেশের মানুষের মনেই নয়, বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসের ওপরে চরম আঘাত হেনেছেন। এর জন্য শুধু ক্ষমা চাইলেই হবে না, দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’
জাপা চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘যেখানেদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং সংবিধান অনুসারে কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা যাবে না— সেখানে লতিফ সিদ্দিকী সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তিনি প্রধানন্ত্রীর ধর্ম বিশ্বাসের ওপরেও চরম আঘাত হেনেছেন।’ এরশাদ বলেন, ‘বিশ্ব ইজতেমার মাঠের বরাদ্দ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই দিয়ে গেছেন। সেই তাবলিগ সম্পর্কেও লতিফ সিদ্দিকী কটূক্তি করেছেন।’
বেসামাল অন্যদেরও দ্রুত অব্যাহতি দিন: বি. চৌধুরী
অধ্যাপক বি. চৌধুরী তার বিবৃতিতে বলেন, ‘বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে যারা বেসামাল কথাবার্তা বলেন তাদের সবাইকে দ্রুত অব্যাহতি দেওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য শুনে আমি স্তম্ভিত ও মর্মাহত হয়েছি। আল্লাহ, রাসুল (সা.) হজ এবং দেশের জ্ঞানি-গুণি মানুষ ও টকশো নিয়ে লতিফ সিদ্দিকী যেসব উক্তি করছেন, তাতে যেকোনো মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ভাবতে পারে, তিনি বেসামাল অবস্থায় ছিলেন কি না?’
বি. চৌধুরী আরো বলেন, ‘হজ সম্পর্কে আবোলতাবোল কথা বলার আগে মন্ত্রীর ভাবা উচিত ছিল, তার দলের নেত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরাও হজ করেছেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতিও এবার হজে গেলেন। এ সব খবর তিনি আদৌ রাখেন কি না? টকশোতে যারা অংশ নেন তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক উপাচার্য, অধ্যাপক, বাংলা একাডেমির পরিচালক, দেশের বরেণ্য সাংবাদিক, আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট শিল্পপতি, ব্যবসায়ী নেতা এবং সাবেক ছাত্র নেতারা রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অশ্রাব্য, অগ্রহণযোগ্য নিচু শ্রেণির বক্তব্য, যথা ‘টকমারানি’ ইত্যাদি বলে তিনি নিজেই নিজের আসল চেহারা তুলে ধরেছেন।’
অব্যাহতির খবরে সন্তোষ বিএনএফের:
বিএনএফ চেয়ারম্যান এস এম আবুল কালাম আজাদ বিবৃতিতে বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন। একজন সাধারণ মানুষও এ ধরনের অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতে হতো। সেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকা লতিফ সিদ্দিকীর অপরাধ আরও বৃহত্।’
গ্রেপ্তারের দাবি ২০ দল শরিক এনপিপির:
২০ দলীয় জোট শরিক এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ পৃথক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য শুনেই বোঝা যায়, তিনি কোনো সুস্থ মানুষ নন। তিনি অপ্রকৃতিস্থ, এই অপরাধেও তিনি মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন না। মন্ত্রিসভা থেকে সরালেই হবে না, তাকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ ধর্মীয় অনুভূতিতে এভাবে আঘাত করার সাহস না পায়।’
প্রতিবাদ সমাবেশ করবে জাপা:
ইসলাম, হজ ও তাবলিগ সম্পর্কে লতিফ সিদ্দিকীর কটূক্তির প্রতিবাদে বুধবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করবে জাপা। এরশাদ এতে বক্তব্য রাখবেন। এতে উপস্থিত থাকার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের অনুরোধ করেছেন জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু।
