‘লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি’

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৪, ২২:১৩
 
 
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, ‘ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ পবিত্র হজ সম্পর্কে অপত্তিকর মন্তব্য করায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’ বুধবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘মেক্সিকোয় গুয়াদালাহারা শহরে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অন আইটি বিশ্ব সম্মেলনে (ডব্লিওসিআইটি) তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজিক উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে গ্লোবাল আইসিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে তার (লতিফ সিদ্দিকী) নেয়ার কথা থাকলেও তিনি অনুষ্ঠানে যাননি। তার বদলে ওই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এ পুরস্কার গ্রহণ করেন। আর এর মাধ্যমে প্রামাণিত হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতি দেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।’
এ দিকে ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ লতিফ সিদ্দিকীর অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন কিংবা আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি। আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বর্তমানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে রয়েছেন। দলীয় পদ থেকে লতিফ সিদ্দিকীতে অব্যাহতি দেয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিক সম্মেলনে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার পর আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে দলীয়ভাবে বহিস্কার কিংবা সাজা দেয়ার সিদ্ধান্ত হবে। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে তাকে সাজা দেয়া হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী দেশে আসলে সব ধরনের সিদ্ধান্তের কথা আপনারা জানতে পারবেন।’
‘লতিফ সিদ্দিকী ইসলাম ধর্ম নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়’ আখ্যায়িত করে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, ইতিমধ্যে নির্দেশের বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘উনি (লতিফ সিদ্দিকী) যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তিনি যে বক্তব্যের মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন, সে কারণে ইতিমধ্যেই তাকে সেই দায়িত্ব (মন্ত্রীত্ব) থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’
মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রতিটি ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুও সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, বিশেষ করে তার নিজ ধর্ম ইসলাম ধর্মের প্রতি অনেক বেশি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তার আমলেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ইসলামিক কর্মকাণ্ডের উন্নয়ন সাধিত হয়। আর বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শত ব্যস্ততার মাঝেও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। তিনি নিজে একাধিকবার হজ পালন করেছেন। ইসলামের বিকাশ ও প্রসারে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা শেখ হাসিনা। এর আগে পবিত্র ধর্ম নিয়ে যাই মন্তব্য করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন শেখ হাসিনা।’
হানিফ বলেন, ‘লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়ানোর কোনো অবকাশ নেই। কিন্তু বিএনপি চেয়েছিল রাজনীতির ইস্যু করে ফায়দা লুটবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তায় তাদের এই আশায় গুড়েবালি হয়েছে।’
সংবাদ সন্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক  আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।