রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিনতাইকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের তিন ছাত্রলীগ কর্মীকে হাতেনাতে আটক করে শাহবাগ থানায় দিয়েছে উদ্যানে কর্তব্যরত পুলিশ ও আশপাশের উপস্থিত লোকজন। এ সময় আরো দুইজন পালিয়ে গেছে। মঙ্গলবার রাতে উদ্যানের কালি মন্দিরের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঐ পাচঁজনের বিরূদ্ধে শাহবাগ থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছেন ভূক্তভোগী মঞ্জু মোল্লা।
আটককৃতরা হলেন-আরিফ (ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান), মামুন (ফলিত পরিসংখ্যান) ও তানজিম (মনোবিজ্ঞান)। বুধবার তাদেরকে কোর্টে চালান দেয়া হয়েছে।
পলাতক দুজন হল-সিহান ও রায়হান। এরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসানের কর্মী।
মামালার এজহার ও প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে মঞ্জু তার বান্ধবীকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘুরতে আসে। রাত ৮টার দিকে উদ্যানের কালি মন্দিরের পেছনে আসলে ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদের পথ অবরূদ্ধ করে জেরা করতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদের বিরূদ্ধে অসামাজিক কার্যকালাপের অভিযোগ এনে তাদের কাছ থেকে মানিব্যাগ ও মোবাইলফোন ছিনতাই করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় মঞ্জুর বান্ধবী চিত্কার করলে আশপাশের লোকজন ও মন্দিরের গেইটে কর্তব্যরত পুলিশ তিনজনকে আটক করে। বাকি দুজন পালিয়ে যায়। পরে তাদের শাহবাগ থানায় নিয়ে আসা হয়। বুধবার তাদেরকে কোর্টে চালান দেয়া হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ জানান, ছিনতাইয়ের অভিযোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে তিন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। আরো দুজন পলাতক রয়েছেন। আটককৃতদের বিরূদ্ধে মামলা হয়েছে এবং কোর্টে চালানও দেয়া হয়েছে। এরা ফজলুল হক মুসলিম হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসানের কর্মী বলে জানা গেছে।
হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তারা হলের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা আপনার কর্মী কি না-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কর্মী হবে কিভাবে, তারাতো কেবল কিছুদিন হলো হলে এসেছে। তাদের রাজনীতি করার সময় এখনো হয়নি।
