মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও পবিত্র হজ সম্পর্কে কটুক্তির কারণে শুধু মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়াই নয়, একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের ও জাতীয় সংসদের সদস্য পদ থেকেও বরখাস্ত করে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে তার মৃত্যুদ্লের ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।
এরশাদ বলেন, একজন লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্যে সারাজাতি আজ বিক্ষুব্ধ। তিনি এখন ‘মুরতাদ’। এর প্রতিবাদ করা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো-আপনি নিজে রোজা রাখেন, নাজাম পড়েন, আপনি একজন পরহেজগার মানুষ, আপনি নিজেও ১৭ বার হজ করেছেন, আপনি তাবলিগের জামায়াতে যান ও মোনাজাতে শরিক হন। কাজেই উনি (লতিফ সিদ্দিকী) আপনার বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন। আপনি তাকে আর আপনার দলে রাখতে পারেন না, তাকে বাদ দিন। এরকম বিকৃত মানুষকে আমরা সংসদেও দেখতে চাই না। তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করুন, আমরা তার ফাঁসি চাই। কারণ তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তার কারণে মুসলিম বিশ্বে আজ বাংলাদেশ ছোট হয়ে গেছে।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, একটি দল নিজেদের ইসলামিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী বলে দাবি করে। অথচ এর প্রতিবাদে প্রতিক্রিয়াও জানাতে পারেনি, তারা নাকি এখনও ভাবছে। আর আমরা রাজপথে নেমেছি।
ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) জাপা আয়োজিত এই সমাবেশে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, আমাদের হজ, ধর্ম সম্পর্কে যিনি কটাক্ষ করেছেন তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, লতিফ সিদ্দিকী বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে অপমান করেছেন। আমরা তার বিচার চাই। অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনুন।
ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) জাপার আহ্বায়ক সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- অধ্যাপিকা রওশন আরা মান্নান এমপি, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, এডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আরিফ খান, জহিরুল আলম রুবেল, মোবারক হোসেন আজাদ, বেলাল হোসেন ও নাজমা আক্তার প্রমুখ।
