রাজধানীতে রাস্তা বন্ধ করে পশুর হাট

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৪, ২২:২১
রাজধানীর অস্থায়ী পশুর হাটগুলো নির্ধারিত স্থান পেরিয়ে রাস্তার উপরে গিয়েও বসছে। এতে যান চলাচল ও পথচারীদের হাঁটাচলায় ঝামেলা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পশুর হাট বসানোর ব্যাপারে যেসব নির্দেশনা দিয়েছিল সেগুলো মানছে না ইজারাদাররা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব সংলগ্ন কোরবানির পশুর হাটটির জন্য মধুমিতা সিনেমা হলের সামনের রাস্তা ও পিছনের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। হাট বীর প্রতীক শহীদ জাকির হোসেন রোড থেকে শুরু করে গোপীবাগ হয়ে কমলাপুর - মুগদা পর্যন্ত ঠেকেছে। এতে গোপীবাগ, কমলাপুর ও মুগদার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। এই রাস্তায় কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।  সবাই বিকল্প পথে যাতায়াত করছে।
স্থানীয়রা বলছেন, রাস্তার উপর পশু উঠায় তারা চলাচল করতে পারছে না। এছাড়া গরুর শিংয়ের আঘাতে কয়েক জন পথচারী আহত হয়েছেন।
 পশুর হাটের জন্য যে জায়গাটি নির্ধারিত ছিল বুধবার সেখানে গিয়ে বিভিন্ন বয়সী ছেলেদের ফুটবল খেলতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে ব্রাদার্স ক্লাবের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, এখনো গরুর হাট শুরু হয়নি। তাই মাঠের গেট বন্ধ রয়েছে। গরুর চাপ বাড়লে মাঠের গেট খুলে দেয়া হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মুহাম্মদ সামছুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ইজারাকৃত হাট ছাড়া কোনো অবৈধ হাট বসতে দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে আমাদের টিম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, ব্রাদার্স ক্লাবের বালুর মাট গরুর হাট বসানোর জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর ব্যাতিক্রম হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
গোপীবাগের স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, তার বাড়ির সামনে গরুর হাট বসেছে। গরুর শিংয়ের গুতোয় তার ছোট দুই ছেলে শাওন ও বাঁধন আহত হয়েছে। তিনি রাস্তা থেকে গরুর হাট তুলে বালুর মাঠের ভেতর তা স্থাপনের দাবি জানান। অভিন্ন দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্ধা সিতারা বেগম।
এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ১৩টি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৮টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দেয়। রাজধানীর কমলাপুর ও মুগদা এলাকার মত একই অবস্থা বিরাজ করছে অন্য এলাকার বৈধ পশুর হাট ও তত্সংগ্ন এলাকায়। এছাড়া রাজধানীতে আরো ২০ টি অবৈধ হাট বসেছে রাস্তার উপর। এগুলো হল: রাজধানীর গোলাপবাগে, হাজারীবাগ পার্কের সামনে, আগারগাঁওয়ে, উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের চৌরাস্তায়, উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের প্রধান ও শাখা রোডে, শ্যামলী রিং রোড থেকে মোহাম্মদপুর যাওয়ার রাস্তায়, তেজগাঁও কলোনী বাজারে, দক্ষিণ খানে, গুলশান নতুন বাজারে ও গাবতলী বেড়িবাঁধে।
ধুপখালা ইস্ট এন্ড ক্লাব মাঠে গরুর হাট
এদিকে ধুপখোলা ইস্ট এন্ড ক্লাব মাঠে নিয়ম নীতি মেনেই চলছে পশুর হাট। এখানকার সবচেয়ে বড় গরুর দাম হাঁকা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। গরুর নাম কালাপাহাড়। এর মায়ের নাম ঝরণা আর ভাইয়ের নাম বাদশা। গরুর মালিক আজিজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, কালাপাহাড়ের বয়স ৪ বছর। দাম হাঁকা হয়েছে ১০ লাখ টাকা । আনুমানিক ২২ মণ গোশত হতে পারে। এখন  পর্যন্ত ৬ লাখ টাকা দাম উঠেছে। দাম ৮ লাখ টাকা পেলে গরুটি বিক্রি করে দেবেন বলে জানান তিনি। বাদশার দাম হাঁকা হচ্ছে ৬ লাখ টাকা। ৪ লাখ টাকা দাম উঠেছে। ৫ লাখ টাকা হলে তিনি বাদশাকেও বিক্রি করবেন বলে জানান।