ড. মনসুর খান আর নেই

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৪, ১৫:১৮

একুশে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ও নিউইয়র্ক প্রবাসী ড. মনসুর খান (৬১) আর নেই। স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহে রাজেউন)। তিনি দুরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০১২ সালে ড. মনসুর খান একুশে পদক পান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী নাঈমা খান এবং একমাত্র সন্তান ডা. ইভান খানসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, দুই সপ্তাহ আগে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে ড. মনসুর খানকে লংআইল্যান্ডের নর্থশো’র ম্যানহাসেট ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি হয়। নিউমোনিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মরণব্যাধি ক্যান্সারের কারণে মঙ্গলবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সবার প্রিয়মুখ ড. মনসুর খানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যুর খবর শুনে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে মোমনসহ কমিউনিটির সর্বস্তরের নেতারা তার লং আইল্যান্ডের বাসায় ছুটে যান। উল্লেখ্য, ড. মনসুর খান নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের অনারারি উপদেষ্টা ছিলেন।
এদিকে, ড. মনসুর খানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় মসজিদ জ্যামাইকা বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশিদের প্রাণকেন্দ্র জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিটে। দুটি জানাজাতেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঢল নামে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্কের লংআইল্যান্ডের ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল মুসলিম গোরস্থানে মনসুর খানের মরদেহ দাফন করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে ড. মনসুর খান মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। দুইবার তার বনমেরু ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয়। তৃতীয় বার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্ভব না হলেও কেমোথেরাপির মাধ্যমে তিনি মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। প্রায় এক যুগ মরণব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে তিনি বেঁচে ছিলেন এবং তার হাতে গড়া টিউটোরিয়াল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খানস টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন প্রজন্মের মাঝে জ্ঞানের আলো বিতরণ করছিলেন।
ড. মনসুর খানের জন্ম চট্টগ্রামে হলেও বড় হয়েছেন ঢাকায়। তার বাবা খানে আলম খান ঢাকার বিভাগীয় কশিনার ছিলেন। ১৯৮৫ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে আমেরিকায় যান। লেখাপড়া শেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে দীর্ঘদিন যাবত শিক্ষকতা করে কমিউনিটির কল্যাণে ১৯৯৪ সালে খানস টিউটোরিয়াল প্রতিষ্ঠা করেন।