সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ১২ শতাংশ

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৪, ১৯:০৮
 
মুসলমানদের ঈদ উল আযহা ও সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীদের দুর্গা পূজা উপলক্ষে সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে। এ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১৩১ কোটি ৯৩ লাখ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এর আগের মাসে যা ছিলো ১১৭ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। সে হিসেবে সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ১২ শতাংশ। আগের অর্থবছরের (২০১৩-১৪) সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসীরা ১০২ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছিলেন। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৯৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিলো ৩২৭ কোটি চার লাখ ডলার। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরে ৭১ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স বেশি এসেছে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কোরবানির ঈদে পশু ক্রয়ে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় দরকার হয়। এজন্য এ সময়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার বেড়ে যায়। তাছাড়া এবার দুর্গা পূজাও এ মাসে। তাই প্রবাসী বাংলাদেশীদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। প্রতিবছর উত্সবের মাসগুলোতে রেমিট্যান্স আয় বাড়ে বলে উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৪৪ কোটি ২৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এনেছে। যা আগস্টে ছিলো ৩৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার। এ মাসে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ৭০ লাখ ডলার। যা আগস্ট মাসে ছিলো এক কোটি ৫০ লাখ ডলার। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো সেপ্টেম্বর মাসে ৮৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এনেছে। যা এর আগের মাসে এসেছিল ৭৬ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। আর বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এক কোটি ৪২ লাখ ডলার দেশে এসেছে, যা আগস্ট মাসে ছিলো এক কোটি ৩৯ লাখ ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের তথ্যে দেখা যায়, গত ২০১৩-১৪ অর্থবছর শেষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪২২ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার বা তার সমপরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রা। যা ২০১২-১৩ অর্থবছরে ছিলো এক হাজার ৪৪৬ কোটি ১১ লাখ ডলার। সে হিসেবে গত অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছিলো ২৩ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।