রাজধানীর হাটগুলো গবাদি পশুতে ভরে গেছে। প্রায় সব হাটেই নির্দিষ্ট জায়গা পেরিয়ে আশপাশের জায়গাতেও রাখা হয়েছে গরু, মহিষ ও ছাগল। গাবতলীসহ আরো কয়েকটি হাটে উট, দুম্বাও উঠেছে। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গরুর শিং ও কুঁজে দেয়া হয়েছে রং-বেরঙের মালা। গলায় শোভা পাচ্ছে কাগজের ফুলের মালা। কোনো কোনোটির বাহারি নামও রাখা হয়েছে। ‘মি. ডলফিন’, ‘কালাপাহাড়’, ‘বিগ এলিফেন্ট’সহ আরো কত কী। দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এভাবে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও ক্রেতাদের আগমন খুব কম। যারা আসেন, তারাও চলে যাচ্ছেন দামাদামি করে। বিক্রি হচ্ছে খুব কম। তবে এতে বিক্রেতারা হতাশ নন। কারণ, তারা বলছেন— গরুর কাটতি শুরু হবে শুক্রবার থেকে। আর সর্বাধিক বিক্রি হবে শনি-রবি বার।
গরুর দিকে ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়াতে কিছু বড় গরু আলাদা শামিয়ানা টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। গাবতলীতে দেখা গেল— যশোর থেকে আগত গরুব্যাপারী হাসমত আলী একটি গরু নিয়ে এসেছেন। গরুর নাম রেখেছেন মি. ডলফিন। গরুর গায়ে তেল মেখে চকচকা করা হয়েছে ক্রেতাদের আকর্ষণ সৃষ্টি করতে। এটির দাম হাঁকা হয়েছে সাড়ে চার লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত দেড় লাখ টাকা দাম উঠেছে। হাসমত আলী মনে করেন, তিনি তার কাঙ্ক্ষিত দামেই বিক্রি করতে পারবেন মি. ডলফিনকে।
এ দিকে, গরুর হাটে সব কিছু ছাপিয়ে ভারতীয় গরু আমদানি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। গরুবিক্রেতারা আশঙ্কা করছেন— যদি এখন বাজারে ভারতীয় গরু আসে তবে গরুব্যবসায় বড় ধরনের মার খেতে হবে। শনির আখড়া হাটে আগত ফরিদপুরের গরুব্যবসায়ী ফেরদৌস আলম বলেন, রাজধানীতে সাধারণত গরু বিক্রি হয় ঈদের দুয়েক দিন আগে। সে হিসেবে আগামী দুই-তিন দিন গরুর কাটতি থাকবে অনেক বেশি। এ সময় যদি ভারতীয় গরু এসে যায় তবে দেশি গরুর বিক্রেতারা মাঠে মারা পড়বে। আর ক্রেতারা বলছেন— ভারতীয় গরু কম থাকায় ব্যাপারিরা বেশি দাম হাঁকছেন। ভারতীয় গরু না এলে ব্যাপারিরা গরুর দাম ছাড়তে চাইবে না। তাই ভারতীয় গরু না এলে উচ্চ দামে গরু কিনতে হবে। তবে গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত গরুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। এর পরও গরু আসছে। গরুভর্তি ট্রাক অপেক্ষায় আছে গরু নামানোর জন্য। তাই সঙ্কটের কোনো আশঙ্কা নেই। ইজারাদাররা বলছেন— এখনো বেশ কিছু গরুর ট্রাক পথে আটকে আছে। শুক্র-শনি বারও হাটে গরু আসবে। তাই সঙ্কটের কোনো আশঙ্কা নেই। এ দিকে ক্রেতারা বলছেন, শুক্র ও শনিবার গরু বিক্রির হিড়িক পড়ে যাবে। তখন গরুর সরবরাহ ভালো না থাকলে দাম বেড়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় গরু এলে বাজারে গরুর দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকবে।
গরুব্যাপারি শাহিনুর হোসেন বলেন, পাবনা থেকে গরু নিয়ে আসতে পথেপথে একাধিক জায়গায় চাঁদা দিতে হয়েছে। গড়প্রতি দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়েছে। গাড়িভাড়াও অনেক বেশি। এ ছাড়া, পাঁচ দিন গরু নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করতে অনেক খরচ হবে। এ সব হিসাব করেই গরু বিক্রি করতে হবে। গত বছর গরুব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বছর যদি লোকসানে পড়তে হয় তবে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে। কারণ, ঋণ করে গরু কিনে এনেছি। এখন লোকসান হলে জমি বিক্রি করে ঋণের টাকা ফেরত দিতে হবে।
জানা গেছে, এবার গাবতলীর স্থায়ী হাটসহ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে ১৮টি হাট বসেছে। নিয়ম অনুযায়ী আজ শুক্রবার থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত হাট বসার কথা থাকলেও বুধবার থেকেই হাট বসতে শুরু করেছে। আগে থেকে হাট বসলেও সেভাবে বিক্রি নেই। গরুব্যবসায়ীরা বসে আছেন, ক্রেতাদের আগমনের আশায়। হাটগুলোতে পুলিশ থাকলেও এখনো কিছু হাটে জাল নোট শনাক্তকরণের মেশিন বসেনি। এতে গরুবিক্রেতারা অসন্তুষ্ট। তবে ইজারাদারা বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী শুক্রবার থেকেই জাল নোট শনাক্ত করার মেশিন বসানো হবে।
