আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ‘নো-মোর’। মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পদসহ দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হবে। তবে সার্বিক সিদ্ধান্ত হবে ঈদুল আজহার পর। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অনানুষ্ঠানিক এক বৈঠকে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। বৈঠক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, ঈদের পর রাষ্ট্রপতি দেশে ফিরলে প্রথমে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রিসভার সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সবার অনুমতি নিয়েই তাকে অব্যাহতি দেয়া হবে। এরপর দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হবে। পরে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হবে।
বৈঠক সূত্র আরো জানায়, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।
সিলেট অফিস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে কোন সুস্থ মানুষ এ রকম আঘাত করতে পারে না। আমার মন্ত্রিসভার এবং দলের কেউ পবিত্র হজ্ব সমপর্কে এরকম বক্তব্য দেবে—এটা কোন অবস্থায় সহ্য করা যায় না। তিনি বলেন, হজ্ব ইসলামের একটি মৌলিক স্তম্ভ। আমি নিজেও বেশ কয়েকবার হজ্ব-ওমরাহ্ পালন করেছি।
বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সিলেট আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী এমন মনোভাব ব্যক্ত করেছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সমপাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ।
লতিফ সিদ্দিকীকে কেবল মন্ত্রিত্ব নয়, দল থেকেও বাদ দেয়া হবে এমন মনোভাব ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী-এই তথ্য জানিয়ে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় ফেরার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। মিসবাহ সিরাজ আরো বলেন, সিলেটের মানুষের প্রতি সম্মান দেখাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওসমানী বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করেছেন। লন্ডন থেকে বিমানের ফ্লাইটটি চারশ যাত্রী নিয়ে সিলেটে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী চাইলে ঢাকায় নামতে পারতেন। কিন্তু যাত্রী এবং সিলেটের মানুষের প্রতি সম্মান দেখাতেই তিনি এখানে ছুটে আসেন। আইসিটি মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে মিসবাহ বলেন, মন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই মর্মাহত হয়ে বলেছেন, তিনি নিজে হজ্ব করেছেন, এমনকি তার দাদা-দাদীরও হজ্ব করিয়েছেন। পিতা-মাতা, নানা-নানীসহ আত্মীয়-স্বজনের বদলি হজ্বও করেছেন। আমেরিকায় বসেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরানোর জন্য। তাকে দলে রাখবেন না-দলের পদ থেকেও সরানো হবে। এ বিষয়ে বাকি বক্তব্য তিনি ঢাকায় গিয়ে দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, তোমাদের সিলেটের প্রতি আমার আলাদা একটা টান। এজন্য আমি সব যাত্রীকে নিয়ে সরাসরি সিলেটে চলে এসেছি। কামরান প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় না নেমে সরাসরি সিলেটে চলে এসেছেন। লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত পরিষ্কার। এ ব্যাপারে নেত্রী খুবই অনড়।
লন্ডন থেকে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করেন। যুক্তরাজ্য থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান সকাল ৯টায় ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে ঘণ্টাখানেক অবস্থান করে সিলেট আওয়ামী লীগের ৫ শীর্ষ নেতা ও মহিলা সংসদ সদস্যদের সাথে কথা বলেন। এ প্রসঙ্গে মিসবাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে চা-চক্র এবং সাংগঠনিক বিষয়াদি নিয়েও আলোচনা করেছেন। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতির কথা শুনে সিলেট বিমান বন্দরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় উত্সুক জনতার ভিড় জমে উঠে।
