লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৪, ১০:০৮

হজ্ব, তাবলীগ জামায়াত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর আপত্তিকর বক্তব্যের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা, গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন মহল জানার চেষ্টা করছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন কিনা। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে তিনি ওই কথাগুলো বলেছেন কিনা তাও জানার চেষ্টা চলছে।

 

কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লতিফ সিদ্দিকী ভালো করেই জানেন তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া কি হবে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তার কথায় আহত হবেন এটাও তার না জানার কথা নয়। তারপরও কেন তিনি কথাগুলো বললেন- তা আমাদের বোধগম্য নয়। তার অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল কিনা তা জানার চেষ্টা চলছে।

নিউইয়র্কের আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুর রহমান গতকাল ইত্তেফাককে এ প্রসঙ্গে বলেন, লতিফ সিদ্দিকী যা বলেছেন, এটা নিতান্তই তার বক্তব্য। আমরা তার বক্তব্যে বিস্মিত হয়েছি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতারা তার বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, লতিফ সিদ্দিকীর সামপ্রতিক কর্মকান্ডের ব্যাপারে তারা খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৬৯তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা ত্যাগ করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর শুরু হয় জলবায়ু সম্মেলন ২০১৪। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়কে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। বেলারুশের প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিয়াসনিকোভিচ, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সফল বৈঠক করেন।

সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা চলার সময়ও বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখা, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক সাফল্যে বাংলাদেশ যখন বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে প্রশংসা পাচ্ছিল, ঠিক এসময়ই লতিফ সিদ্দিকী আপত্তিকর মন্তব্য করে বসেছেন।

এতেই সন্দেহ দানা বাঁধছে তাহলে কি লতিফ সিদ্দিকী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এসব বিরূপ মন্তব্য করেছেন।

২৭ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্কের ম্যারিয়ট মারকুয়েজ হোটেল মিলনায়তনে জাতিসংঘে বাংলাদেশের ৪০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে ইউনিভার্সেল সিভিক কমিটি (সার্বজনীন কমিটি) কর্তৃক আয়োজিত বিশাল সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আরও বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। ওই সমাবেশে লতিফ সিদ্দিকী সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরে প্রশংসা করেন। বলেন জয়কে দলের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্যও। অথচ এর ২৪ ঘণ্টার মাথায় জয় সম্পর্কে ঠিক উল্টো মন্তব্য করে বসেন লতিফ সিদ্দিকী। এ প্রসঙ্গে মনোরোগ বিজ্ঞানীরা বলেন, তার বক্তব্য ও পরদিন বিবিসিতে দেয়া সাক্ষাত্কার শুনে মনে হচ্ছে তিনি যা বলেছেন ঠাণ্ডা মাথায় বলেছেন।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সময় বেফাঁস মন্তব্য করে বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হন লতিফ সিদ্দিকী। আওয়ামী লীগের এর আগের ৫ বছর মন্ত্রী থাকাকালে তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি  টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে তদন্ত চলছে। এমতাবস্থায় তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার জন্য বিরূপ মন্তব্য করলেন কিনা এমনটাই ভাবছেন অনেকে।