সাংসদ এনামুরের অপহৃত শ্বশুর উদ্ধার

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৪, ০১:৫২

গত বুধবার দেশে ফেরার উদ্দেশে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে আসার সময় অপহৃত হয়েছিলেন সাভারের সাংসদ এনামুর রহমানের শ্বশুর ফজলুল হক (৬৫)। এরপর তাঁর পরিবারের কাছে বাংলাদেশে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। শুক্রবার ফজলুল হককে উদ্ধার করেছে সে দেশের পুলিশ।

অপহরণ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাই বাংলাদেশী। মালয়েশিয়ার পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে শোনা গেছে। তবে তাঁদের নাম প্রকাশ করেনি। বিভিন্ন সূত্র থেকে অপহরণের সঙ্গে জড়িত চারজনের নাম মিলেছে- এরা হলেন দেলোয়ার, রফিক, আবদুল আলিম ও হারুন। এদিকে মুক্তিপণ সংগ্রহ করতে আসা দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে র‌্যাব।
পারিবারিক সূত্র জানায়, এনামুর রহমানের তৃতীয় স্ত্রী চিকিৎ​সক ফরিদা রহমানের বাবা ফজলুল হক একসময় বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। অবসরের পর তিনি মালয়েশিয়ায় কিছু ব্যবসা গড়ে তুলেছেন। তিনি নিয়মিত মালয়েশিয়া যাওয়া-আসা করতেন। কুয়ালালামপুরে তাঁর ফ্ল্যাট র​য়েছে। বুধবার তিনি দেশের আসার জন্য বিমান বন্দরে আসার পথে অপহৃত হন। এরপরে বাংলাদেশে তাঁর স্বজনদের নম্বরে ফোন করে প্রথমে ১০ কোটি টাকা মুক্তি পণ চাওয়া হয়। পরে এক কোটি টাকায় রফা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশে ৭০ লাখ ও মালয়েশিয়ায় ৩০ লাখ টাকা পরিশোধের কথা হয়। অপহরণকারীরা টাঙ্গাইলের একটি জায়গায় ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে বলে। সেই অনুযায়ী স্বজনেরা টাকা নিয়ে গেলে সেই জায়গা থেকে র‌্যাব দুইজনকে আটক করে। আটক ব্যাক্তিরা হলেন আল আমিন ও নজরুল ইসলাম।
র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান জানান, আল আমিন ও নজরুল মামাতো-ফুফাতো ভাই। এদের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। আল আমিনের ভাই মালয়েশিয়ায় ওই অপহরণের ঘটনায় জড়িত। সেখান থেকে তিনি আল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণের টাকা সংগ্রহ করতে বলেন।

সাংসদ এনামুর জানান, বাংলাদেশে গ্রেপ্তার আল আমিনের ভাইয়ের নাম আবদুল আলিম। তিনি ওই অপহরণের ঘটনায় জড়িত বলে তাঁরা মালয়েশিয়ার পুলিশের মাধ্যমে শুনেছেন। ফজলুল হক বিমানবন্দর থেকে তাঁর কুয়ালালামপুরের ফ্ল্যাটে যেতে নিয়মিত দেলোয়ার হোসেন নামে এক বাংলাদেশী ট্যাক্সি চালকের গাড়ি ব্যবহার করতেন। দেলোয়ারকেও গ্রেপ্তার করেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ।
স্বজনেরা জানান, বাংলাদেশে র‌্যাব আল আমিনকে আটকের পরে কিছু সূত্র পাওয়া যায়। যার ফলে মালয়েশিয়ার পুলিশ ফজলুল হককে দ্রুত উদ্ধারে সমর্থ হয়।