ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কর্মকাররা

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৪, ২২:০৬
 
লৌহ শিল্পের নিপুন কারিগর কর্মকার সমপ্রদায়। লোহা আগুনে পুড়িয়ে তা থেকে ছুরি-চাকু,দা,কাস্তে থেকে শুরু করে কতকিই না তৈরি করেন তারা। তাদের দক্ষ ও সুনিপুন হাতের ছোঁয়ায় কঠিন লোহা থেকে তৈরি হয় বাহারীসব সামগ্রী। বিশেষ করে কোরবানির ঈদে কর্মকারদের কদর বাড়ে। বছরের বাকি ৯ মাসই তাদের বেকার থাকতে হয়। বছরের অধিকাংশ সময়ই তাদের কষ্টে, অর্ধহারে, অনাহারে  জীবন কাটে।
কাওরান বাজার কামার পাড়ার বাসিন্দা কামাল উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, কোরবানিরর ঈদ উপলক্ষে কিছু কাজের অর্ডার পাই। অর্থাত্ আগস্ট ,সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর এই তিন মাস ধরে কাজের চাপ থাকে। মূলত কোরবাণীর ঈদকে কেন্দ্র করেই এই আয়োজন।
পশু জবাই উপলক্ষ্যে চাপাতি,দা,বটি,ছুরি, জবাই ছুরি,চাকুসহ নানা লৌহ সামগ্রী তৈরি করা হয়। ঈদ ফুরালে তীর্থের কাকের মত বসে বসে কাটাতে হয় নতুন কাজের আশায়। এমনও দিন যায়  সারা দিনে এক শত টাকাও জোটেনা ভাগ্যে।
রাজধানীর কাওরান বাজার কামার পল্লীর আরেক বাসিন্দা মঙ্গল কর্মকার ইত্তেফাককে বলেন, কাঁচা ও পাকা দুই ধরনরে লোহা পাওয়া যায়। কাঁচা লোহা দেড়শ থেকে দুইশ আর পাকা লোহা তিন শত টাকা থেকে ৫শত টাকা কেজি।
কাঁচা লোহায় তৈরি সামগ্রী বিক্রি হয় তিন শত টাকা কেজি মূল্যে, আর পাকা লোহার সামগ্রী পাঁচ শত টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া বেশ কিছু সামগ্রী পিচ হিসাবে বিক্রি হয়। যেমন, একটি গরু জবাই করা ছুরি বিক্রি হয় তিন থেকে পাঁচশত টাকায়। মজুরি দেয়া হয় আশি টাকা। চাপাতির মূল্য তিন থেকে পাঁচ শত টাকা। মজুরি সর্বোচ্চ সত্তর থেকে আশি টাকা। চামড়া ছাড়ানোর ছুরি এক শত টাকা। মজুরি বিশ টাকা। সাইট ছুরি দুই শত টাকা। মজুরি পঞ্চাশ থেকে ষাট টাকা। কোরবাণীর বটি তিন শত টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়। এর মজুরি পঞ্চাশ থেকে সর্বোচ্চ দুই শত টাকা। মঙ্গল কর্মকার বলেন, শ্রম দিতে কষ্ট নেই, যদি ন্যায্য পারিশ্রমিক পাই। তিনি কর্মকারদের মজুরি বৃদ্বির দাবি জানান।
বাংলাদেশ কর্মকার শিল্প সমিতির সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র কর্মকার ইত্তেফাককে বলেন, লৌহ শিল্পীদের চরম দুর্দিন চলছে। এখন মাছ শিকারের জন্য টেঁটা,জুতি, বল্লম তৈরি হয় না। সর্বোপরি অর্থ সংকট,অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আর বিদেশি রকমারি পণ্যের কাছে ক্রমশ জিম্মি হয়ে পড়েছে লৌহ শিল্প।