কারাগারের ভেতর আসামির আত্মহত্যা

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৪, ০৩:০২

কারাগারের হাসপাতালের শৌচাগারে পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আবদুল করিম (৭৫) নামের এক আসামি আত্মহত্যা করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে গতকাল শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকেলে তাঁর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আবদুল করিম নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে জেলা কারাগারের প্রধান কারারক্ষী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে কারারক্ষী মোখলেছুর রহমানকে।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, আবদুল করিম বিচারাধীন একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি ওই মামলায় আদালতে হাজির হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ ও বৃদ্ধ হওয়ায় কারাগারে আসার প্রথম দিন থেকেই তাঁকে হাসপাতালে রাখা হয়।
জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক গিয়াস উদ্দিন জানান, গতকাল ভোরে ফজরের আজানের পর আবদুল করিম হাসপাতালের শৌচাগারে যান। সেখানেই তিনি আত্মহত্যা করেন। এরপর আরেকজন কয়েদি শৌচাগারে গেলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। পরে কারারক্ষীরা গিয়ে শৌচাগারের জানালার গ্রিলের সঙ্গে পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় আবদুল করিমকে উদ্ধার করেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদের জানান, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ১০ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পূর্বভাগ গ্রামের জহুর আলীর কন্যাশিশু তাছলিমা (১২) খুন হয়। এ ঘটনায় জহুর আলী বাদী হয়ে চাচাতো ভাই আবদুল করিমকে প্রধান আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার সাত-আট দিন পরই আবদুল করিমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২৩ জুন তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরে আবার ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।
গতকাল সদর হাসপাতালে আবদুল করিমের মেয়ে মারুফা বেগম (৩৫) সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তাঁর বাবা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। অথচ জামিনে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাঁর বাবাকে জহুর আলী, চেরাগ আলী ও তাঁদের ছেলেরা মারধর করেছেন। সেই হতাশা থেকে তাঁর বাবা আত্মহত্যা করেছেন।