আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ: নিহত এক

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৪, ০৩:১১

প্রভাব বিস্তার ও বিরোধকে কেন্দ্র করে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৪০ জন। উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের তেতৈতলা এলাকায় শনিবার রাত নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম মনসুর প্রধান (৫৫)। তাঁর ভাতিজা বালুয়াকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন প্রধানকেও গত ২৩ মার্চ কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন।
পুলিশ জানায়, শামসুদ্দিন প্রধান নিহতের ঘটনায় তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে বোরহান শিকদার, জাকারিয়া, আমানউল্লাহ দেওয়ানসহ ২৬ জনকে আসামি করে গজারিয়া থানায় মামলা করেন। আসামিরা জামিনে ছাড়া পাওয়ার পরই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। সম্প্রতি ওই ইউনিয়নের উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মর্জিনা বেগম নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তাঁর বিরোধিতা করেন বোহরহান শিকদার ও জাকারিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি অংশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, পূর্ব এই বিরোধকে কেন্দ্র করে গতকাল রাত নয়টার দিকে মর্জিনা বেগম, শামসুদ্দিন প্রধানের ভাতিজা জুয়েল প্রধানের সঙ্গে বোরহান শিকদার, জাকারিয়া ও আমানউল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় জুয়েল প্রধানের লোকজন অতর্কিতে বোরহান শিকাদার ও জাকারিয়া পক্ষের ওপর হামলা করে। এতে হোসনে আরাসহ ১০-১৫ জন আহত হন। এ সময় চারদিকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে হোসনে আরা মারা গেছেন। এই প্রচারণায় বোরহান শিকদার ও জাকারিয়ার পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে কয়েক শ লোক নিয়ে মর্জিনা ও জুয়েল প্রধানের লোকজনের ওপর হামলা করে। এ সময় পথে পেয়ে মনসুর প্রধানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গেও সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছোড়ে। থেমে থেমে রাত ১১টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে।
গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম জানান, শামসুদ্দিন প্রধানের হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে ছাড়া পেয়ে মনসুর প্রধানকেও কুপিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় তাঁদের পক্ষের অন্তত ১৫-২০ জন আহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে গজারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা রেফায়েত উল্লাহ খান জানান, জুয়েল প্রধান ও মর্জিনা বেগমের লোকজন কোনো কারণ ছাড়াই হামলা করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হোসনে আরাকে (৫০) গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের গজারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, মনুসর প্রধানের মরদেহ গজারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।