রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৪, ০৩:১৯

পবিত্র হজ্ব পালিত হয়েছে গত শুক্রবার। এখন অপেক্ষা কেবল রাত পোহানোর। ভোর হলেই ১০ জিলহজ, সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা। মহান আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে দেশের মুসলিম সম্প্রদায় তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উদ্যাপন করবে। ঘরে ঘরে ত্যাগের আনন্দে মহিমান্বিত হবে মন।

সোমবার সকালেই মুসল্লিরা নিকটস্থ ঈদগাহ বা মসজিদে আসবেন ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের জন্য। খতিব নামাজের খুতবায় তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধনী-গরিবনির্বিশেষে সবাই একত্রে নামাজ আদায় করবেন। শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন কোলাকুলির মাধ্যমে।
শুক্রবার থেকেই ঢাকা থেকে ঘরে ফেরার পালা শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার শহরের সড়কগুলো ছিল আধা ফাঁকা। ভিড় ছিল পশুর হাট, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে। ঈদের যাত্রায় ভোগান্তি কম নয়, এবারও তার কোনো হেরফের হয়নি। প্রিয়জনের সান্নিধ্য লাভের আনন্দ, আপন ঠিকানায় ফেরার অনুভূতির তুলনায় যাত্রার দুর্ভোগ মনে নিয়েই সপরিবারে গ্রামে ফিরে গেছেন অসংখ্য মানুষ।
বাণী ও শুভেচ্ছা: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাঁর বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ‘ঈদুল আজহার মর্মবাণী আমাদের শিক্ষা দেয় পরমতসহিষ্ণু, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সমুন্নত রাখার মাধ্যমে শান্তি-সম্প্রীতিময় বিশ্বসমাজ গঠন করার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আজহায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে বিভেদ-বৈষম্যহীন সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
খালেদা জিয়া তাঁর বাণীতে বলেছেন, দেশে এখন ভয়ংকর নৈরাজ্য চলছে। মানুষের জীবন ও সম্পদের কোনো নিশ্চয়তা নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পানি, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকট মানুষকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। এই অবস্থায় সবার পক্ষে ঈদের আনন্দ যথাযথভাবে উপভোগ করা সম্ভব হবে না।
ঈদের নানা আয়োজন: দেশের সংবাদপত্রগুলো বরাবরের মতোই পবিত্র ঈদুল আজহার তাৎপর্য তুলে ধরে প্রকাশ করছে বিশেষ সংখ্যা। টেলিভিশন ও বেতার থেকে সম্প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। এ ছাড়া ঈদের দিনে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশু সদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র ও সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।