শান্তি ও অগ্রগতির জন্য বিশ্ববাসী বাংলাদেশকে সম্মান করছে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৪, ২০:২৩


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে দেশে শান্তি ও অগ্রগতি অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে এবং বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে বসেছে। সোমবার গণভবনে দলীয় নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর  তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশকে জঙ্গি ও দুর্নীতির দেশে পরিণত করেছিল। আমরা সেই বদনাম ঘুচিয়ে বাংলাদেশকে উন্নয়নের একটি রোলমডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি। এ কারণে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে সম্মান পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের সুশাসনের ফল ভোগ করছে। আমরা জাতির জনকের স্বপ্নের সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে পারবো ইনশাআল্লাহ।
মন্ত্রিবর্গ, দলীয় নেতৃবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক জনগণের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, গঠনের পর থেকেই তাঁর সরকার ধর্মীয় উৎসব ও পহেলা বৈশাখসহ বিভিন্ন জাতীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, এ বছর একই সঙ্গে দুর্গাপূজা ও ঈদুল আজহা খুবই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে এসব উৎসব উদযাপনে সহযোগিতা করায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যসহ দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবছর ঈদুল আজহার গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে- ভোগ্যপণ্য এবং কোরবানীর পশুসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জিনিসের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবেই সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। প্রত্যেকেই তাদের অর্থনৈতিক সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানীর পশু কিনতে পারছেন- এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক কোরবানীর পশুর হাট এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিরই প্রতিফলন। তাদের আয় বেড়েছে, যার ফলে আনন্দের সঙ্গে তারা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারছেন।
প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদসহ পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থানরত হাজীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশবাসীর শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সুষ্ঠু’ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনে সহযোগিতা করা।
বিভিন্ন সড়কে যানজটের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার সড়ক, নৌপথ ও রেলপথে সহজ ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে গ্রামের মানুষ ঈদ উদযাপনের জন্য সহজেই তাদের ঘরে ফিরতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, ঈদুল আজহা উদযাপন শেষে মানুষ নিরাপদে ফিরে আসবে এবং তাদের কর্মস্থলে যোগ দেবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক দিক দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আজ বাংলাদেশ বিশ্বে সম্মানের আসন পেয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আর জঙ্গি ও দুর্র্নীতির দেশ নয়, যা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ছিল। বর্তমানে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোলমডেল এবং শান্তি ও উন্নয়নের দেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের এ অগ্রাযাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে।
তিনি বলেন, জাতির পিতা দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক মুক্তির স্বপ্নসহ স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগে বিভিন্ন ব্যক্তি শেখ হাসিনাকে তাদের নানা সমস্যা ও দুর্ভোগের কথা জানান এবং তা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য-সহযোগিতা কামনা করেন।
কিছু কিছু দর্শনার্থী প্রধনামন্ত্রীর কাছে আর্থিক সহায়তার প্রার্থনা করেন। কেউ কেউ তাদের কথা আরও বিস্তারিত ভাবে প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর লক্ষ্যে পরবর্তীতে তার সাক্ষাৎ প্রার্থনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাদের চিঠি ও আবেদনপত্র গ্রহণ করেন এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন। সাধারণ জনগণের আবেদন গ্রহণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠান স্থলে একটি ডেস্ক খোলা হয়।
প্রধানমন্ত্রী আগত দর্শনার্থীদের মিষ্টান্ন সেমাই, ফলমূল ও কেক দিয়ে আপ্যায়ন করেন। খবর বাসসের।