সমগ্র বিশ্বের বোলারদের নিয়মের মধ্যে থেকে বোলিং করার অন্যথায় তাদের অ্যাকশন পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন শ্রীলংকার কিংবদন্তী স্পিনার মুত্তিয়া মুরলিধরন। সন্দেহজনক অ্যাকশনের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ স্পিন বোলিংয়ের কৌশল ধ্বংস বয়ে আনবে কিনা-এমন বিতর্কে যোগ দিয়ে টেস্টে ৮০০ এবং ওয়ানডেতে ৫৩৪ উইকেট শিকার করা ৪২ বছর বয়সী মুরলি এ আহবান জানান। অবশ্য নিজের ক্যারিয়ারেও একবার চাকিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল এ স্পিন কিংবদন্তীর বিরুদ্ধে।
গত জুলাই মাসে সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে শ্রীলংকার সাচিত্রা সেনানায়েকে, নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন এবং পাকিস্তানের হাই-প্রোফাইল বোলার সাঈদ আজমলকে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। সবশেষ বাংলাদেশের সোহাগ গাজীকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও
জিম্বাবুয়ের প্রসপার উৎসেয়া এবং বাংলাদেশের আল আমিন হোসেনও গত মাসে সন্দেহজনক বোলিংয়ের জন্য রিপোর্টেড হন।
পেসার আল আমিন ছাড়া সকলেই অফ স্পিনার এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিতর্কিত ‘দুসরা ’ করে থাকেন।
মুরলিধরনের দুসরা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার পর ২০০৬ সালে বাস্তবায়িত হওয়া নিয়মানুযায়ী, বোলাররা বোলিং করার সময় ১৫ ডিগ্রি পর্যন্ত হাত বাঁকা করতে পারবে। কিন্তু বায়োকেমিক ল্যাবে দেখা গেছে সেনানায়েকে এবং আজমল উভয়ের হাতই প্রায় ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত বাঁকা হয় এবং এ থেকে পরিত্রাণ পেতে তাদের কাজ করতে হবে।
বোলারদের নিয়ম মেনে চলার উপর জোড় দেন মুরলিধরন। গণমাধ্যমকে মুরলিধরন বলেন, ‘দীর্ঘ দিন আগে আইনটি প্রবর্তন করা হয়েছিল। এখানে ১৫ ডিগ্রি পর্যন্ত মেনে নেয়া হয়। আইনে যদি বলা হয় যে কোন বোলার সন্দেহজনক, আম্পায়ার তাকে বলতে পারবে না, কিন্তু তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতে পারবে এবং বোলারকে পরীক্ষা করার জন্য যেতে হবে। তিনি বলেন, আমার খেলোয়াড়ি জীবনেও নিয়মটি চালু ছিল। সুতরাং আমাকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। ১৫ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে আপনি বৈধ। তার বেশি হলে আপনার অ্যাকশন নিয়ে কাজ করতে হবে এবং এটাই মূল প্রয়োজন। এটা বিচার করা অন্য মানুষের কাজ নয়। কারণ এখানে নিয়ম আছে এবং আমি নিজেও একই সমস্যা মোকাবেলা করেছি। আমাকেও পরীক্ষা দিতে হয়েছে এবং আমার অ্যাকশন নির্ধারিত সীমার চেয়ে কম ছিল।’
১৯৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়ায় একটি টেস্টে মুরলিধরনের বিরুদ্ধে বল থ্রোর অভিযোগ এনেছিলেন অসি আম্পটয়ার ড্যারেল হার্পার এবং তিন বছর পর একই দেশের রস এমারসন আবারো একই অভিযোগ আনেন। পাকিস্তানের সাকলাইন মুশতাকের সৃষ্টি দুসরা বল না করার জন্য ২০০৪ সালে মুরলিধরনকে নির্দেশ দেয়া হয়।
নিয়মের মধ্যে থেকে দুসরা করা যায় কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মুরলিধরন বলেন, ‘বহুবার আমাকে পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু আমি ১০.৪ ডিগ্রিতে বোলিং করেছি। সুতরাং আমি দুসরা করেছি এবং দেখা গেছে এটা বেশ কার্যকর। কেননা এটা নির্ভর করে একজন বোলার কিভাবে বোলিং করে। আপনি যদি সাকলাইনের কাছে জিজ্ঞাসা করেন তাহলে তিনিও একই কথা বলবেন।’
আজমল বোলিং অ্যাকশন সমস্যা কাটিয়ে উঠবেন বলে জানান মুরলি।
‘আপনি ২-৩ মাস কাজ করলে অবশ্যই এটা সম্ভব। সে সাকলাইনের সঙ্গে কাজ করছে। সাকলাইন তাকে কিছু টিপস দেবে এবং সে এ বিষয়ে কাজ করতে পারেন।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজে অস্ট্রেলিয়া দলের স্পিন বোলিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করা মুরলিধরন বলেন, তাকে নিয়ে ওঠা সকল বিতর্ক ভুলে গেছেন তিন। ‘জীবন মানেই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া এবং পিছনের কথা চিন্তা না করা। সে আমাকে এটা করেছে বলেই তার বিরুদ্ধে লেগে যাব এমনটা নয়। সুতরাং সব কিছু আমি ভুলে গেছি। কারণ আমার জীবনে যা ঘটেছে তা হলো তারা আমার এ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে এবং আমি প্রমান করেছি যে আমি নির্দোষ। পুরো ২০টি বছরই আমি নিজকে প্রমাণ করেছি।’
