শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল
আসিফুর রহমান সাগর
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যে আমতলায় জ্বলে উঠেছিল ভাষা আন্দোলনের দাবানল, সেই স্মৃতি বিজড়িত স্থানে শেষবারের মতো নেয়া হলো ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনকে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার পর তার মরদেহ বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল থেকে নেয়া হয় ঢাকা মেডিক্যালের সামনে আমতলায়। সেখান থেকে তার কফিন নিয়ে আসা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। এর আগে থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সর্বস্তরের মানুষ এই ভাষা সৈনিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুল হাতে শহীদ মিনারে জড়ো হন। তাকে শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নামে। শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে আব্দুল মতিনের স্ত্রী গুলবদন নেসা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মোঃ শফিকুল আলম চৌধুরীর কাছে মরহুমের মরদেহ হস্তান্তর করেন।
গুলবদন নেসা জানান, ২০০৬ সালে ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন সজ্ঞানে তার দেহ ও চোখ দান করা জন্য উইল করে রেখেছিলেন। তার ইচ্ছানুযায়ী তার পরিবার ভাষাসৈনিকের দেহ দান করেছে।
এদিকে, ভাষাসৈনিককে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চুসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব চলার সময় শহীদ বেদীতে দাঁড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ভাষা মতিনকে শ্রদ্ধা ও সম্মান না জানালে, তাঁকে স্মরণ না করলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব নয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, ভাষা মতিন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, কিংবদন্তিতুল্য নেতা। জাতি আশা করেছিল, রাষ্ট্র তার প্রতি যথাযথ সম্মান জানাবে। তবে তা না দেয়ায় দেশের মানুষ কষ্ট পেয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আব্দুল মতিন ভাষা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে আছেন। রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বা স্বীকৃতি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। তবে রাষ্ট্র তার চিকিত্সার দায়িত্ব নিয়েছিল। জাতি, জনগণ, দেশের কাছে ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন এক বিশাল মহীরূহের নাম, অনুকরনীয় ব্যক্তিত্ব।
বুধবার সকাল নয়টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
গত ১৮ আগস্ট ভাষা মতিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ১৯ আগস্ট তাকে বিএসএমএমইউতে স্থানান্তর করা হয়। গত ৪ অক্টোবর থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
