প্রায় দেড় কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুদকের উপপরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
এ বিষয়ে অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ ৪২ হাজার ৬৭০ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই তার বিরুদ্ধে দুদক আইন-২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এছাড়া তিনি দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এ্যানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তিনি স্থাবর-অস্থাবর ও অপ্রদর্শিত সম্পদ মিলিয়ে মোট ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৬ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। যার মধ্যে দায় হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। অর্থাত্ দায় বাদ দিলে তার নীট সম্পদের পরিমান হয় ৩ কোটি ২৫ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৭ টাকা। অপরদিকে ২০১৩ সালের ৩০ জুনে দেওয়া সম্পদ বিবরণী অনুসারে তার ১ কোটি ৭৬ লাখ ৯১ হাজার ৫৮৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে কীভাবে তার এত সম্পদ হল, তার কোন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এ্যানি। তাই মোট ১ কোটি ৪০ লাখ ৪২ হাজার ৬৭০ টাকার সম্পদ তিনি অবৈধ উপায়ে অর্জন করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে। যা দুদক আইন ২০১৪-এর ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মামলার এজাহার সূত্রে আরো জানা গেছে, এ্যানি জমি ক্রয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ তিন লাখ ১৩ হাজার ৯৪০টাকা এবং লক্ষ্মীপুরের কুশখালীতে তার নামে স্কুলে অনুদান বাবদ ১০ লাখ টাকা অর্থ্যাত্ মোট ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। যা দুদক আইন-২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি এ্যানির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এরপর ১২ মার্চ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পাওয়ায় চলতি বছরের ২৫ মার্চ সম্পদ বিবরণীর নোটিশ জারি করে দুদক। এর কিছুদিন পর সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন বিএনপির এই নেতা। তার দেওয়া সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধান কর্মকর্তার মামলার সুপারিশের প্রেক্ষিতে গত ১ অক্টোবর কমিশন মামলার অনুমোদন দেয়।
