পুলিশে যোগ হচ্ছে নারী ট্রাফিক সার্জেন্ট

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৪, ১০:০৮

ঝুঁকিপূর্ণ পেশা পুলিশ বাহিনীতে দিনে দিনে বাড়ছে নারীর উপস্থিতি। ক্রমেই বাড়ছে প্রাধান্য। পৌঁছে গেছেন শীর্ষ পদে। তবে পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে নারী সদস্যরা দায়িত্ব পালন করলেও ছিলেন না ট্রাফিক সাজেন্ট পদে। তবে এবারই প্রথমবারের মত যুক্ত হচ্ছে ট্রাফিক পদে নারী সদস্য। তারা পুরুষের মতই

মোটরসাইকেল চালিয়ে সড়কে দায়িত্ব পালন করবেন। ইতিমধ্যে এর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক পাস, অবিবাহিত। তবে নেয়া হচ্ছে না তালাকপ্রাপ্ত কোন নারীকে। থাকতে হবে মোটরসাইকেল চালনায় দক্ষতা ও কম্পিউটারে অভিজ্ঞতা।  গত মাসে (সেপ্টেম্বর)  বিভাগীয় পর্যায় প্রাক বাছাইপর্ব (শারীরিক ফিটনেস) শেষ হয়েছে। আগামী ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর নির্বাচিতদের লিখিত ও মনস্তাত্বিক পরীক্ষা হবে রাজধানীর মিরপুর শহীদ পুলিশ স্মৃতি স্কুল এন্ড কলেজে। এরপরই হবে চূড়ান্ত নিয়োগ।

ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, বিভিন্ন দেশে পুলিশ বাহিনীতে নারী সাজেন্ট রয়েছে। তারা ট্রাফিক, তাদের সফলতা অনেক। কিন্ু্ত বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীতে সার্জেন্ট পদে কোন নারী সদস্য নেই। এ শূন্যতা পূরণ হবার পথে। নারী যাত্রী ও চালকদের তল্লাশি ও তদারকি করতে সুবিধা হবে। পাশাপাশি নারী-পুরুষ মিলে কাজ করলে ট্রাফিক বিভাগেও কাজের গতি বাড়বে।

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (চলতি) আবিদা সুলতানা পুলিশ বাহিনীতে সার্জেন্ট পদে নারী সদস্য নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে নারী সদস্যরা যথেষ্ট সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন এবং প্রশংসা অর্জন করেছেন। কিন্তু ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট পদে কোন নারী সদস্য ছিল না। নারী সদস্যরা সার্জেন্ট হিসেবে যুক্ত হোক এটা মনে মনে আশা করছিলাম। কারণ বিভিন্ন দেশে সফর কালে দেখেছি নারী সার্জেন্টরা কত সফলভাবে কাজ করে তাদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশের এক নারী কর্মকর্তা আরো বলেন, আমি আশাবাদী নারী সার্জেন্ট হিসেবে যারা যোগ দিতে যাচ্ছে তারা অন্যদের মতোই সফলতা দেখাতে পারবেন। তিনি বলেন, নারী পুলিশ দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হওয়ায় পুলিশ বাহিনীতে নারীদের আরও বেশি অন্তর্ভুক্তি জরুরি। নারীকে বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে দায়িত্ব পালনকারী সাব-ইন্সপেক্টর নাসরিন আক্তার বলেন, পুলিশ বাহিনীতে নারী সার্জেন্ট নিয়োগ সত্যি প্রশংসনীয়। ফলে নারীরা আরও উত্সাহিত হবেন।

পুলিশ সদর দফতরে সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহছান বলেন, সাড়ে তিন দশক আগে পুলিশ বাহিনীতে মাত্র সাত নারী সদস্য নিয়ে শুরু হয়েছিল। তাও খুব ছোট পদে। আর সেই সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে সাড়ে সাত হাজারের উপরে। পুরুষ সদস্যের মতই তারা সমান তালে, সমান চ্যালেঞ্জে এগিয়ে যাচ্ছেন। বহন করছেন ছোট থেকে ভারী অস্ত্র। হাতে ওয়ারলেস সেট, মাথায় হেলমেট। পুরুষের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে।

পুলিশে নারী পুলিশের অভিষেক ঘটে ১৯৭৪ সালে। ৭ জন এসআই এবং ৭ জন কনস্টেবল যোগদানের মাধ্যমে (শুরুতে সাতজনই ছিল)। তখন এসব নারী পুলিশ সদস্যরা কাজ করত সাদা পোশাকে। ইউনিফর্মধারী নারী পুলিশের যাত্রা শুরু হয় দুই বছর পর ১৯৭৬ সালে। এই ১৪ জন দুঃসাহসী নারীর যোগদানের মধ্যে দিয়ে আজ পুলিশ বাহিনীতে নারী সদস্য ৭ হাজার ৬ শত ২ জন।