মহানবী (সা.) ও পবিত্র হজ নিয়ে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর কটুক্তির জন্য তার পক্ষে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপিত বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী। বড় ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে তার প্রার্থনা ‘হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, দয়া করে আমার বড় ভাইকে তুমি ক্ষমা করো, তাকে হেদায়েত দাও, তাকে সুমতি দাও, তাকে ক্ষমা চাইবার শক্তি দাও। আমিন।’ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে দলীয় ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়ে তিনি এই প্রার্থনা করেন।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি ভারাক্রান্ত হূদয়ে শুধু বলতে এসেছি, আওয়ামী লীগের সভাপতিম্ললীর সদস্য লতিফ সিদ্দিকী, মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী আমার কেউ নন। আল্লাহ প্রদত্ত সম্পর্ক অনুযায়ী তিনি আমার বড় ভাই। এই সম্পর্ক বাজার থেকে কেনা যায় না। আমাদের ধমনীতে একই রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। আমাদের বাবা-মা এক। সেজন্য পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমি ক্ষমা চাইতে এসেছি।’
লতিফ সিদ্দিকী মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করেছেন উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এজন্য কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ দলীয়ভাবে নিন্দা জানিয়েছে। আমি শুধু বড় ভাইয়ের এহেন বক্তব্যের জন্য এখানে ক্ষমা চাইতে এসেছি। যদি তিনি (বড় ভাই) তার বক্তব্যের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা না করেন, তাহলে আইনের বিধানে বিচার যা হবে, তা-ই হবে। আল্লাহ তার বিচার করবেন। আল্লাহকে বলবো, পৃথিবীর সব লোককে ক্ষমা করে দিলেও তোমার কোনো ক্ষতি নেই। আবার সবাইকে শাস্তি দিলেও তোমার কোনো লাভ নেই। তুমি আমার ভাইকে ক্ষমা করে দাও।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতিম্ললীর সদস্য লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যে মুসলমানরা মর্মাহত হয়েছেন। আমরাও ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছি। আমি মসুলমান পরিবারের জন্মগ্রহণ করেছি। একজন মুসলমান হিসেবে আমি ও আমার দল এর নিন্দা জানাই। জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। কিন্তু কখনও ঈমানহারা হইনি। এদেশের জনগণ ঐ আপত্তিকর বক্তব্যের যেভাবে প্রতিবাদ করেছেন, আমি তাদেরও মোবারকবাদ জানাচ্ছি।’
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ করেছি, কেউ আমাকে বাঘা সিদ্দিকী বলেছে। রাষ্ট্র আমাকে বীরোত্তম উপাধি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু আমাকে বঙ্গবীর বলে ডাকতেন। তার কন্যা আমার ভাগ্নি (শেখ হাসিনা) আমাকে পাগলের উপাধি দিয়েছেন। শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী। যার কাছে দেশের ১৬ কোটি মানুষের সম্ভ্রম, সেই প্রধানমন্ত্রী আমাকে পাগলের বংশ বলেছেন। আমি শুধু বলব, আল্লাহ তাকেও হেদায়েত দান করুন।’
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য সম্পর্কে দলের অবস্থান তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার। এতে বলা হয়, ‘মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সম্প্রতি নিউইয়র্কে হজ সম্পর্কে বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য তার এবং তার দল আওয়ামী লীগের প্রতি গভীর নিন্দা জ্ঞাপন করছি। ঐ ন্যাক্কারজনক ঘোরতর আপত্তিকর বক্তব্য শুধু তার (আবদুল লতিফ সিদ্দিকী) একার হতে পারে না। কেউ স্বীকার করুক আর না করুক, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মনে করে এটা সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগ ও ভোটারবিহীন জবরদখলকারী অনির্বাচিত সরকারের বক্তব্য।’
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয় ‘সরকারের অগণতান্ত্রিক কাজের ওপর থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার এটি এক অপকৌশল মাত্র। ইতিপূর্বেও এই সরকারের প্ররোচনায় এবং সহমমির্ততায় শাহবাগে তথাকথিত গণজাগরণ মঞ্চের সাথে সম্পৃক্ত ব্লগাররা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছে।’ লতিফ সিদ্দিকীকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে সব দলের অংশগ্রহণে দ্রুত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।
সংবাদ সম্মেলনে কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী, দুই মেয়ে কুরি সিদ্দিকী ও কুশি সিদ্দিকী এবং দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
