পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে মন্তব্য করে বিপাকে পড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফিরতে চান। দুইবার তিনি ফেরার উদ্যোগও নিয়েছিলেন। ঢাকা থেকে মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা তার ফিরতি ফ্লাইটের টিকেট এ পর্যন্ত দু’বার কনফার্ম করেছিলেন। কিন্তু কারো কাছ থেকে আনুকূল্য না পাওয়ায় বর্তমানে লতিফ সিদ্দিকী নিউইয়র্ক ছেড়ে টেক্সাস রাজ্যের ডালাস শহরে অবস্থান করছেন।
নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার দুদিন লতিফ সিদ্দিকী নিউইয়র্ক থেকে প্রায় ১৫শ মাইল দূরে মেক্সিকো সীমান্তবর্তী টেক্সাস রাজ্যের ডালাস শহরে যান। মেক্সিকোতে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশ্বসম্মেলন থেকে ফিরে নিউইয়র্ক থেকে তিনি বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করেন। দেশে ফেরার ব্যাপারে তার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কারো কাছ থেকে তিনি ইতিবাচক সাড়া পাননি। পরে নিজ সিদ্ধান্তে দেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করে ঈদের দিন লতিফ সিদ্দিকী তার মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকে ফোন করে ফ্লাইটের টিকেট কনফার্ম করতে বলেন। মন্ত্রীর নির্দেশে ওই কর্মকর্তা ঈদের দুদিন পর ৬ অক্টোবর লতিফ সিদ্দিকীর টিকেট কনফার্ম করে দেন। ওই কর্মকর্তাই বাংলাদেশ থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার সময় মন্ত্রীর টিকেট কেটে দিয়েছিলেন।
সূত্র জানায়, ঈদের দুদিন পর দেশে ফেরার কথা থাকলেও লতিফ সিদ্দিকী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আরো দুদিন নিউইয়র্কে অবস্থান করেন। পরে মন্ত্রণালয়ে তার একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে পুনরায় ফ্লাইটের টিকেট কনফার্ম করার নির্দেশ দেন। পরে ওই ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আগের জনসংযোগ কর্মকর্তাকে দিয়েই দ্বিতীয় দফায় ফিরতি টিকেট কনফার্ম করেন। এই সময়ের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকী অসংখ্যবার ঢাকায় ফোন করে তার দেশে ফেরার আগ্রহের কথা জানান। পরিবারের সঙ্গেও একাধিক বার যোগাযোগ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আশ্বাস পেলেও ওপর মহল থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে তিনি ডালাসে চলে যান। ডালাস যাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত লতিফ সিদ্দিকীর ব্যবহƒত গ্রামীণফোনের নম্বরটি রোমিং অবস্থায় ছিল। নিউইয়র্কের বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও ওই নম্বরে ফোন করলে তিনি কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে লাইন কেটে দেন। বর্তমানে ওই ফোন নম্বরটি সার্বক্ষণিক বন্ধ রয়েছে।
এদিকে ডালাসে অবস্থান করলেও নিউইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতির এক নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন লতিফ সিদ্দিকী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টাঙ্গাইল সমিতির ওই কর্মকর্তা ইত্তেফাককে জানান, লতিফ সিদ্দিকী যে কোনোভাবে দেশে ফিরতে চান। তিনি টাঙ্গাইলে অবস্থানরত তার ব্যক্তিগত সহকারী জনৈক রুবেল এবং ভাইদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। টাঙ্গাইল এবং ঢাকা থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।
যে অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী হজ ও তাবলিগ নিয়ে মন্তব্য করে বিপাকে পড়েছেন সেই টাঙ্গাইল সমিতির অনুষ্ঠান সম্পর্কে এই কমকর্তা ইত্তেফাককে জানান, জেলার কৃতি সন্তান ও মন্ত্রী হিসাবে নিউইয়র্ক আগমন উপলক্ষে লতিফ সিদ্দিকীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল। সংবর্ধিত অতিথি হিসাবে তিনি তার বক্তব্যে হজ ও বাতলিগ জামাত নিয়ে মন্তব্য করেন। মন্ত্রীর ওই বক্তব্যে সমিতির কর্মকর্তারা কমিউনিটিতে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। তবে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলন করে লতিফ সিদ্দিকীর মন্তব্যের প্রতিবাদও করেছেন।
এদিকে লতিফ সিদ্দিকীর ব্যাপারে বাংলাদেশ সময় রবিবার (১২ অক্টোবর) সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু লতিফ সিদ্দিকী এ ব্যাপারেও তদবির চালাচ্ছেন। কিন্তু বিবিসি’র সঙ্গে সাক্ষাতকারে তার মন্তব্যের ব্যাপারে শক্ত অবস্থান সবকিছুর অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্টরাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন তার থেকে। তবে লতিফ সিদ্দিকী অনুরোধ জানিয়েছেন যে দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত যেন তার ব্যাপারে কঠোর কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়া হয়। প্রয়োজনে তিনি মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবেন।
