এমপি বদিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৪, ১৮:৫৯
 
অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত রবিবার সকালে ঢাকার সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান আবদুর রহমান বদি। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মারুফ হোসেন এই আদেশ দেন।
মামলায় বদির পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদনের শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান লিখণ এবং দুলাল মল্লিক। অন্যদিকে জামিনে আপত্তি জানিয়ে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন মো. কবির হোসাইন।
গত ১১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের জামিন পান বদি। ওই জামিনের মেয়াদ শেষে তাকে নি আদালতে আত্মসমপ নের নির্দেশ দেয়া হয়। উচ্চ আদালতের ওই নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ ও ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে সম্পদের তথ্য গোপনপূর্বক মিথ্যা তথ্য প্রদান ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার হলফনামার সূত্র ধরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আবদুর রহমান বদি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা মূল্যমানের সম্পদ গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বৈধতা দেখানোর জন্য কম মূল্যের সম্পদ ক্রয় দেখিয়ে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৩৩৭৫ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি দেখানোর অভিযোগে এ মামলা করে দুদকের উপপরিচালক আবদুস সোবহান।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি, সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার অফিস, এনবিআর, বিআরটিএ, রাজউক, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, রিহ্যাব, ব্যাংক-বীমাসহ অন্যান্য অফিসে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে সম্পদের হিসাব বের করেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তের নিজ নির্বাচনী এলাকায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তদন্ত কর্মকর্তারা। জানা যায়, সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির সম্পদ বেড়েছে ৩৫১ গুণ। নামে-বেনামে তার কোটি কোটি টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে।